নিউজটি শেয়ার করুন

বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ক্যাপ্টেন নওশাদের লাশ আনতে নাগপুর যাবে

বিমানের বিশেষ ফ্লাইট ক্যাপ্টেন নওশাদের লাশ আনতে নাগপুর যাবে
ছবি: সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্ক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইয়ুমের লাশ আনতে ভারতের নাগপুরে যাবে বিমানের বিশেষ একটি ফ্লাইট।  দেশের এ অভিজ্ঞ বৈমানিকের লাশ নাগপুরের কিংসওয়ে হাসপাতালের মর্চুয়ারিতে রয়েছে। তবে ফ্লাইটটি কবে কখন নাগপুর যাবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রয়েছে। এ কারণে ক্যাপ্টেনের লাশ আনতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে। ক্যাপ্টেন নওশাদের মৃত্যুর পর হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটের অপেক্ষায় ছিল বিমান। সেই সার্টিফিকেটের কপি ঢাকায় আসার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়েছে বিমান।

ওই সূত্র আরও জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। সোমবার মধ্যরাত অথবা মঙ্গলবার সকালে আনা হতে পারে লাশ। বিমানবন্দরে তাকে সম্মাননা জানাবেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম- জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার গণমাধ্যমকে জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব মসজিদে ক্যাপ্টেন নওশাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও বিমানের পক্ষ থেকে তার মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, ক্যাপ্টেন নওশাদের অকাল মৃত্যুতে বিমানের এমডি ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালসহ বিমানের সকল স্তরের কর্মীরা গভীরভাবে শোকাহত। বিমান ক্যাপ্টেন নওশাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছে।

শুক্রবার মাসকাট-ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল ফ্লাইট বিজি ০২২ মোট ১২৪ যাত্রী নিয়ে ঢাকা আসার পথে পাইলট ক্যাপ্টেন নওশাদ আতাউল কাইউম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরের ড. বাবাসাহেব আম্বেদকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। এর পর নাগপুরের ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তাকে ভর্তি করা হয়। শনিবার রাতেই নওশাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় তিনি ‘কোমায়’ চলে যান।

ক্যাপ্টেন নওশাদ ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ হলেও স্বজনরা লাইফসাপোর্ট খুলে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর লাইফসাপোর্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তারা। এর পর সোমবার তার লাইফসাপোর্ট খুলে দিয়ে নওশাদকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments