নিউজটি শেয়ার করুন

বিদায়ের বেলায় একি করলেন সুজন!

আমানত শাহ মাজারের সামনে ফুটপাত জুড়ে ফুলের দোকান ও নার্সারি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: হঠাৎ সিপ্লাস টিভি অফিসে এক লোকের ফোন। ‘অনেকদিনতো সুজন সাহেবের ফুটপাত অভিযান নিয়ে বিশাল বিশাল নিউজ করেছিলেন। বলুনতো বিদায়বেলায় উনি কিভাবে ফুটপাতে দোকানের অনুমতি দিলেন? এগুলো আপনাদের নজরে আসে না? নাকি ভালো করে খেয়েছেন উনার কাছ থেকে’!

এভাবে অনেক কিছুই বলে যাচ্ছিলেন। লোকটির কথাগুলো তির্যক হলেও যৌক্তিক মনে করায় সবিনয়ে জিজ্ঞেস করলাম-ভাই কোথায় এই ঘটনা? বললেন দেখে আসুন- নগরীর শাহ সুফী আমানত শাহ মাজারের সামনে সড়কের ৩/৪ ফুটের একটি ফুটপাতে জুড়ে গড়ে উঠছে ফুলের দোকান ও নার্সারি।

সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

অত্যন্ত ব্যস্ত এবং নানা কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মাত্র তিন ফুট প্রশস্ত ফুটপাতে এমন স্থাপনা দেখে বিভিন্ন মহল নানা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব ছাড়ার আগে একটি মহলকে এ ফুটপাতে ফুলের দোকান ও নার্সারি গড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তাই অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন,-‘বিদায়ের বেলায় একি করলেন সুজন’!

চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদীঘির পূর্ব পাড় জেল রোডের উত্তর পাশে মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত হযরত শাহ সুফী আমানত খান (র:) মাজার। সড়কের দক্ষিণ পাশে আগাগোড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সীমান্ত দেয়াল। মাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আগমনের কারণে সামনের এই সড়কটি রাত-দিন ব্যস্ত থাকে। দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও আসাদগঞ্জের এটি প্রধান প্রবেশদ্বার। যে কারণে এ সড়কে অসংখ্য মানুষ এবং বিভিন্ন হাল্কা ও ভারি পরিবহনের যাতায়াত। সড়কটির দুই পাশের ফুটপাতের প্রশস্ততা সর্বোচ্চ তিন ফুট। প্রয়োজনের তুলনায় যা অত্যন্ত সরু। পাশাপাশি সড়কের উপর রাত-দিন বিভিন্ন গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এখানে জনদুর্ভোগ সার্বক্ষণিক সঙ্গি। তার সাথে ফুটপাত জুড়ে ফুলের দোকান ও নার্সারি গড়ে উঠলে মানুষের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

সরেজমিনে দেখা যায়, লালদীঘির পূর্ব পাড় জেল রোডের মুখ থেকে দক্ষিণ পাশে আনসার ক্লাবের দিকে ফুটপাতে গড়ে উঠছে ফুলের দোকান ও নার্সারি। ইতিমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ‘শাহ আমানত নার্সারি’ নামে দুটি দোকান। সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক অনুমোদিত নার্সারি’।  অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে আরও অসংখ্য দোকানের। তিন ফুট প্রশস্তের প্রতিটি  দোকানের সাইজ ১০ থেকে ১৫ ফুট। দোকান ছাড়াও দীর্ঘ ফুটপাত জুড়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের চারা। এভাবে ক্রমান্বয়ে সড়কের দক্ষিণ পাশের ফুটপাতে নির্মাণ করা হচ্ছে বাণিজ্যিক স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, এ সড়কে বিভিন্ন গাড়ির পার্কিং বন্ধ করে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এলাকার মানুষের দাবি।কিন্তু বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করে পরিবেশ আরও দুর্বিষহ করা কারো কাম্য হতে পারে না।

দোকানীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, মহিউদ্দিন শাহ নামের এক সাবেক ছাত্রনেতা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে লিজ নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছেন। প্রতিটি দোকানের সেলামী সর্বনিম্ন ৩ লাখ টাকা। মাসিক ভাড়া সর্বনিম্ন ৬ হাজার টাকা। এছাড়া আরও বিভিন্ন অঙ্কের সেলামী ও ভাড়ায় বিভিন্ন সাইজের দোকান ও নার্সারি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র কয়েকদিন। জনগণকে একটি সুন্দর শহর উপহার দেয়া আমার অঙ্গিকার। বিগত সময়ে কোথায় কি হয়েছে সবকিছু যাচাই-বাছাই করা হবে। কেবল অনুমোদন থাকলেই হবে না। যেখানে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, সেখানেই তড়িত ব্যবস্থা নেয়া হবে। হযরত শাহ সুফী আমানত খান (র:) মাজারের সামনে সড়কের ফুটপাত জুড়ে ফুলের দোকান ও নার্সারির গড়ে তোলার বিষয়টি অবশ্যই খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় আন্দকিল্লা ওয়ার্ড কাউন্সিলর  জহরলাল হাজারী বলেন, ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আগে এ জায়গা কাকে কিভাবে কোন স্বার্থে লিজ দেয়া হয়েছে, আমার কিছুই জানা নেই। তখন আমি কাউন্সিলরের দায়িত্বে ছিলাম না। সিটি করপোরেশনের সকল দায়িত্ব ছিল প্রশাসকের হাতে। শুধু এটুকুই বলবো এখানে সবকিছু অনৈতিকভাবে হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে এ ধরনের স্থাপনা আরও বেশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।

সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন শাহ’র কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, আমানত শাহ মাজারের সামনে সড়কে দক্ষিণ পাশের ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। এ জায়গা মল-মূত্রের অন্যতম স্থানেও পরিণত। তাছাড়া এ ফুটপাতে বিভিন্ন মাদকসেবীদের বসবাস। মাজার কর্তৃপক্ষ এ সড়কের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য বার বার সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সে বিবেচনায় সড়কের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সিটি করপোরেশন  লিজ দিয়েছে। লিজ গ্রহিতা হচ্ছে আমার চাচাতো ভাই। লিজে উল্লেখ রয়েছে কেবল ফুলের দোকান বা নার্সারি ছাড়া এখানে আর কিছু করা যাবে না।

উল্লেখ্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নির্বাচনের প্রথম তফসিল ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে করোনার মহামারী দেখা দেয়। যে কারণে নির্বাচন স্থগিত করে চসিকের প্রশাসক নিযুক্ত করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে। গত ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়ের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়রের দায়িত্বগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

পূনশ্চঃ ফোনদাতা যদি নিউজটি পেয়ে থাকেন আপনাকে সবিনয়ে বলছি, প্রশাসক হিসেবে খোরশেদ আলম সুজন দায়িত্ব নেবার পর অনেক জঞ্জাল পরিস্কারের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আকর্ষণীয় ও নগরকেন্দ্রিক ভালো কাজের সাথে সিপ্লাসটিভি এবং সিপ্লাসবিডিডটনেট সঙ্গে ছিলো, আগামীতেও ভালো কাজের সাথে অবশ্যই থাকবে। তবে কোন কিছুর বিনিময়ে এইসব নিউজ করা হয়নি।