নিউজটি শেয়ার করুন

বাবার বিকৃত যৌনাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবাকে খুন করে ছেলে

বাবার বিকৃত যৌনাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবাকে খুন করে ছেলে
ছবি: সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্ক: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানা পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস নির্মম হত্যা কান্ডের হত্যা রহস্য উদঘাটন পূর্বক হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

খুন হওয়া সুভাষের বাড়ি জেলার ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের ফারুকনগর গ্রামের উত্তরপাড়ায়। গত বুধবার(১৮ই আগষ্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সুভাষের বাড়ির পূর্বপাশে মনাই নদী থেকে সুভাষের মরদেহ উদ্ধার করে মধ্যনগর থানা পুলিশ।

জানা যায়,ষাটোর্ধ সুভাষ চন্দ্র সরকার প্রায় রাতেই বাড়ির সামনে নদীর ঘাটে তাদের নৌকায় ঘুমায়। কিন্তু হঠাৎ এক রাতে তাকে নৌকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। সুভাষ সরকারের ছেলে সুজিত চন্দ্র সরকার (৩২) প্রতিবেশীদের নিয়ে খোঁজতে বের হয় তার বাবাকে। নৌকার অদূরে নদীর পানিতে গলায় ও পায়ে রশি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় সুভাষের মরদেহ। বাবার এমন ভয়নাক পরিণতিতে সুজিতের কান্না ও চিৎকার শুনে ছুটে আসে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয়রা। সুজিত সাথে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুভাষের মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন সুভাষের মেয়ে নীভা রানী তালুকদার স্থানীয় থানায় মামলা করেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুজিতসহ সুজিতের মা আরতী রানী সরকার ও খেলা রানী সরকারকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ সুভাষকে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। আর এতেই বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেবের ভাষ্যমতে, বিকৃত মানসিকতার অধিকারী ও নারী লোভী ব্যক্তি সুভাষ শারীরিকভাবে ছিল শক্তপোক্ত। সুযোগ পেলেই সে যে কোনো নারীকে যৌন হয়রানী থেকে শুরু করে ধর্ষণ করতো। যা তার পুত্রবধূ তাদের জানিয়েছে। সুভাষের বিকৃত যৌনাচার থেকে রেহাই পায়নি পুত্রবধূ, ভাগ্নীসহ কোনো কোনো নারী প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন। বিষয়টি নিয়ে সুভাষের পরিবারের লোকজন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। এ নিয়ে পরিবারের ঝগড়া ঝাটিও হয়েছে বেশ। দিনদিন সুভাষের বিকৃত আচরণ বেড়েই চলেছিল। পরিবারের লোকজন চেষ্টা করেও কোনো তাকে এ কাজ থেকে ফেরাতে পারেনি। ফলে তারা এসব নীরবে সহ্য করে যাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তারা কি করবে ভেবে উঠতে পারছিল না। লোকলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতেও পারছিল না তারা। ফলে সুভাষের স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

1 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments