নিউজটি শেয়ার করুন

বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র তালিকায় রাজাকারপুত্র!

স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নালিশ

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আওতাধীন বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে রাজাকারপুত্র ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডে নালিশ (আবেদন) জানিয়েছে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাঁশখালী উপজেলা ইউনিট।

এতে উল্লেখ করা হয় বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট এস.এম তোফাইল বিন হোসাইনের পিতা মৌলভী এটিএম আজগর হোসাইন একজন কুখ্যাত রাজাকার। বাঁশখালী মুক্তিযুদ্ধ সংসদ কমান্ডের প্রস্তুতকৃত রাজাকার তালিকায় এই যুদ্ধাপরাধীর নাম রয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়ে জামায়াত-বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে তোফাইল মাঠে নেমেছেন।

অথচ বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ প্রেরিত তালিকায় তোফাইলের নাম রয়েছে ১ নম্বরে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বাঁশখালী উপজেলা ও পৌরসভা আওয়ামী লীগের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার জন্য ৯ জনের নাম স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডে প্রেরণ করা হয়। ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন বাঁশখালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এস.এম তোফাইল বিন হোসাইন, বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শ্যামল কান্তি দাশ, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর হোসেন, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেহেনা আক্তার কাজেমী, বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ ফখরুদ্দিন চৌধুরী, বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগ নেতা মোহামুদুল ইসলাম, বাঁশখালী পৌরসভা যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হামিদ উল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলী মোহাম্মদ মুজতবা, বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এম. মনছুর আলী।

অথচ বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাঁশখালী উপজেলা ইউনিট বলছে ৯ জনের তালিকার ১ নম্বরে থাকা তোফাইল বিন হোসাইন রাজাকারপুত্র ও বিতর্কিত। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ।

স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডে প্রেরিত আবেদনে আরও উল্রেখ করা হয়, তার পিতা যুদ্ধকালীন সময়ে সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি জ্বালানো, সহায় সম্বল লুটতরাজ ও বিভিন্ন হয়রানি নির্যাতনের সাথে জড়িত ছিলেন। যে কারণে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে উচ্ছ্বাসিত মুক্তিযোদ্ধারা এই রাজাকারকে ধরে নিয়ে থানায় সোপর্দ করেন। তার আত্মীয় স্বজনরাও স্বাধীনতা বিরোধী ও জামায়াত-শিবির রাজনীতির সাথে জড়িত। তোফাইলের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন মুক্তিযোদ্ধা হত্যার সাথে জড়িত। ১৯৯৬ সালে তৎকালিন জামায়াতের আমির গোলাম আযমকে তার বাড়িতে আপ্যায়ন করা হয়। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি থেকে তিনি কিছু অসাধু নেতার হাতধরে ছাত্রলীগের রাজনীতে সক্রিয় হন। তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন জালজালিয়াতির সাথেও জড়িত। এছাড়া রয়েছে আরও নানা অভিযোগ।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে সভার সর্ব সম্মতিক্রমে বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়নের জন্য ৯ জনের নাম স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে তোফাইল বিন হোসাইনের নাম। পরবর্তীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন তাকে রাজাকারপুত্র অভিহিত করে বিতর্কিত বলে আখ্যায়িত করছেন তা আমার জানা নেই। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং নানা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়ে থাকে। মনোনয়ন বোর্ড অবশ্যই সবকিছু খতিয়ে দেখবে।

এডভোকেট এসএম তোফাইল বিন হোসাইন বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব অপপ্রচার চালিয়ে আমার মনোনয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যার কোন ভিত্তি নেই। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে এখন পর্যন্ত দলের যে কোন দু:সময়ে মাঠে ছিলাম। নানা নির্যাতনের পরও কখনো পিছপা হয়নি। আশাকরি সকল ষড়যন্ত্রকে মিথ্যা প্রমাণিত করে দলের পক্ষ থেকে আমাকে যথাযতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।