নিউজটি শেয়ার করুন

ফেনীতে গৃহবধুকে সাপ দিয়ে নির্যাতনের পরে এসিড নিক্ষেপ

ফেনীতে গৃহবধুকে সাপ দিয়ে নির্যাতনের পরে এসিড নিক্ষেপ

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার সাতকুচিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়িতে এক গৃহবধুকে সাপ দিয়ে অপচিকিৎসার নামে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। এর প্রতিবাদে সচেতন নাগরিক সমাজের আয়োজনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধের শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার একটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসে অমির পরিবার। এ সুবাধে গৃহবধুর শ্বশুর বাড়ির লোকজন এসেই আবারও এসিড মেরে ঝলসে দেয়।

রবিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বাবার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের পূর্ব দরবারপুর সেকান্দরপুর মৌলভী বাড়ীতে নির্যাতিত অমির উপর এসিড ছুঁড়ে তারেক, মিনার ও ফরহাদ। এদের মধ্যে ২ জনকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ফরহাদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঝলসে যাওয়া গৃহবধু অমিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ফুলগাজীর খালেদা ইসলাম অমির সাথে পারিবারিকভাবে পরশুরাম উপজেলার সাতকুচিয়া গ্রামের চৌধুরী বাড়ির আবুল হাসেমের ছেলে প্রবাসী লিখনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে লিখনের মা ও ভাই-বোনরা মিলে অমিকে যৌতুকের জন্য নানা নির্যাতন করতে থাকে।

গত জুন মাসে চিকিৎসার নামে অমি ও তার চার বছরের একমাত্র কন্যা নুরীয়াকে জীবন্ত বিষধর সাপ দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। গত ৭ আগস্ট রাতে অমিকে একটি বিষধর সাপ কামড় দেয়। অমি মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করলেও তাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরদিন ৮ আগস্ট বিকেলে পাশের এলাকার একজন সাপুড়ে এনে (ওঝা) পুনরায় সাপ দিয়ে অপচিকিৎসার নামে অমিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে।

খবর পেয়ে সেদিনই অমির পরিবার তাকে শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে অমিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে ৮দিন চিকিৎসা নেয়ার পর গত ১৬ আগস্ট অমিকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। চিকিৎসকরা অমির পরিবারকে জানান অধিক নির্যাতনে সে বাকশক্তি হারিয়েছে। ফিরতে সময় লাগবে।

এদিকে বাড়িতে নিয়ে আসার পর খবর পেয়ে ১৭ আগস্ট অমির শ্বাশুড়ীসহ তাদের লোকজন অমিকে জোর করে তার বাবার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় অমির পরিবার বাধা দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বাড়ি-ঘরে হামলা করে।

এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট অমির মা শাহান আরা বাদী হয়ে ফুলগাজী ৯ জনকে মামলা করেন। মামলার পর চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকা থেকে অমির ননদ হাসিনা আক্তার ও তার স্বামী আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অমির বাবা ইসমাইল হোসেন ও ভাই সাগর কাতার প্রবাসি। তিন বোনের মধ্য দ্বিতীয় অমির চার বছরে এক শিশু রেয়েছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments