নিউজটি শেয়ার করুন

পুলিশের জালে ধরা আজব চোর: স্বর্ণে কামড় দিলেই বোঝে আসল না নকল

সিপ্লাস প্রতিবেদক: কোতোয়ালী থানাধীন ৬৪২ লাভ লেইন এলাকার একটি বসত বিল্ডিংয়ের ভিতর থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা ২টি আইফোন মোবাইল, ১টি হাতঘড়ি, ৩০টি শাড়ি চুরি করে। এ ঘটনায় আহমেদ ইকবাল হায়দার বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয় বলে জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন।

এ মামলায় তদন্তে নামে কোতোয়ালী থানার এসআই মৃনাল কান্তি মজুমদার। তিনি গোপনে সংবাদের ভিত্তিতে রিয়াজউদ্দিন বাজার জেবুনেছা রোড কর্ণফুলী টাওয়ার ৭ম তলায় হোটেল হার্ট অব সিটি’র ৭০৮নং কক্ষের ভিতর অভিযান চালিয়ে মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শইক্কা (৩১) কে আটক করে। এসময় তার দেহ তল্লাশী করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা এবং বাম পকেট থেকে ২টি স্বর্ণের চুড়ি, ১টি ছেড়া স্বর্ণের চেইন, ১টি স্বর্ণের আংটি জব্দ করা হয়।

ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় উক্ত ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো জনৈক মোঃ সেলিম (৩৫) এর নিকট থেকে ক্রয় করেছে এবং তার নিকট থেকে পাওয়া চোরাই স্বর্ণালংকার চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল।

আসামী জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, চোরাইকৃত মোবাইল ২টি জনৈক মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও মোঃ সবুজ (২৫) এর কাছে বিক্রয় করেছে।

আসামী মোঃ শফিকুল ইসলামের আরেক সহযোগী মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫) কে পুরাতন রেলওয়ে ষ্টেশনের বাগদাদ হোটেল গলির সামনে থেকে আটক করে। এসময় তার হেফাজত থাকা ২টি আইফোন মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

আসামী মোঃ শফিকুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে চুরি করার সময় স্বর্নালংকার পেলে উক্ত স্বর্ণালংকার দাতে কামড় দিয়ে, আগুন লাগিয়ে টেস্ট করে দেখে আসল স্বর্ণ কিনা। পরবর্তীতে আসল স্বর্ণ মনে হলে সাথে সাথে নিয়ে নেয়।

আরো জানায় সে চট্টগ্রাম, ঢাকা, ফেনীতে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার চুরি করেছে। সে একটি হোটেলে ১৫ দিনের জন্য অবস্থান করে। ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে চুরি করে কাজ শেষ করে আবার অন্য জেলায় চলে যায়। যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে।

এভাবে সে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচলাইশ থানাধীন পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার তিন তলা বিল্ডিংয়ের একটি বাসা থেকে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করে। তার মধ্যে কিছু স্বর্ণালংকার নিজ হেফাজতে রাখে। তার নিকট থেকে পাওয়া স্বর্ণালংকার সমূহ উক্ত পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে চুরি করা স্বর্ণালংকার বলে সে স্বীকার করে।

সে উক্ত বাসায় থাকা ভাত তরকারি খাওয়ার পর চা বানিয়ে খায়। সে ১৫ দিনের চুরির মিশনে এসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে কখনো রিক্সা বা কখনো পায়ে হেটে চুরি করার স্থান রেকি করে। পরে রাতে ২/৩ টার দিকে মাত্র কয়েক মিনিটেই গ্রীল কেটে বা তালা ভেঙ্গে চুরি করে। সে নগরীতে ৫০/৬০টি চুরি করেছে এবং অনুরূপভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই স্টাইলে চুরি করেছে বলে স্বীকার করে।

এছাড়াও ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে আকবরশাহ্ থানায় ২টি মামলা এবং কোতোয়ালী থানায় ২টি করে মোট ৪টি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

আটককৃত চোররা হলেন- মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রকাশ শইক্কা (৩১), পিতা-মোঃ আক্তার হোসেন প্রঃ আক্তার উদ্দিন, কামড়াবন্দ, আবু বক্কর মেম্বারের বাড়ি, জলিল কসাইয়ের বাড়ীর পূর্ব পাশে, পোঃ বাতাঘাট ইউনিয়ন, গ্রাম-কামড়াবন্দ, থানা-তাহিরপুর, জেলা-সুনামগঞ্জ বর্তমানে-ষ্টেশন রোড এলাকায় ভাসমান, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রাম এবং মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫), পিতা-মৃত আহম্মদ হোসেন, মাতা-আনোয়ারা বেগম, সাং-লালপুর, দর্জি বাড়ি, ওয়ার্ড নং-০৭, বিষ্ণুপুর ইউপি, পোঃ-লালপুর বাজার, থানা-চাঁদপুর ।

পলাতক আসামীর গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।