নিউজটি শেয়ার করুন

পিতৃতুল্য মোকতাদির চৌধুরীকে সম্মান দেখিয়ে চেয়ারে বসলেন না শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল

আমাদের দেশে প্রায় যে কোন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির জন্যে তুলনামূলক উচু বা বড়সর সাইজের আরামদায়ক চেয়ার রাখার রেওয়াজ রয়েছে৷ সেই আসনটিকে সাজসজ্জার পাশাপাশি বসানো হয় মঞ্চের কেন্দ্রে৷ এই চেয়ারে বসাকে এখনো আত্মসম্মানের বিষয় ভাবেন অনেক অতিথিরা৷ উপযুক্ত চেয়ার না পেয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটানোর নজরও আছে অনেক৷

তবে সেই লৌকিকতা পরিহার করে আবারো সবার নজর কাড়লেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল৷ নিজের জন্যে নির্ধারিত চেয়ারটিতে তিনি বসালেন অনুষ্ঠানের সভাপতিকে৷ শুধু মঞ্চের চেয়ারে বসা নয়, অনুষ্ঠান উপস্থাপক ও অন্যান্য বক্তরা যখন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলকে নানান বিশেষনে সম্ভোধন করার পাশাপাশি তার খ্যাতি সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখনো তাদের থামিয়ে দেন মন্ত্রী নিজেই৷

গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইউনির্ভাসিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থাকা নয়টি চেয়ারের মধ্যে তোয়ালে দেওয়া ঢাকা তুলনা মূলক উচু একটিতে প্রধান অতিথি বসার জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে সম্মান দেখিয়ে সেই চেয়ারে বসলেন না তিনি। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই প্রধান অতিথির পাশের চেয়ারে বসে ছিলেন উপমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে মঞ্চে উঠার পরপরই মোকতাদির চৌধুরী প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত চেয়ারে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসানকে অনুরোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে মহিবুল হাসান ওই চেয়ারে বসার জন্য মোকতাদির চৌধুরীকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনি আমার মুরুব্বী। আপনিই এখানে বসবেন। ’ ভার্সিটির প্রস্তাবিত উপাচার্য ডা. মো. আনোয়ার হোসেনও এ সময় ব্যারিস্টার নওফেলকে অনুরোধ করলেও তিনি ওই চেয়ারে না বসে পাশের চেয়ারে বসেন। বিষয়টি উপস্থিত অনেকেরই দৃষ্টিগোচর হয়।

এরপর অনুষ্ঠানের উপস্থাপক অদিতি রায় উপমন্ত্রী মহিবুল হাসানকে বক্তব্য রাখার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর সময় তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে শুরু করেন। কিন্তু হাসি দিয়ে অদিতিকে হাতের ইশারায় থামিয়ে বক্তব্য রাখতে মঞ্চের ডায়েসের দিকে চলে আসেন মহিবুল হাসান।এর আগে ভার্সিটির ট্রাস্টি ড. সাজ্জাদ হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহিবুল হাসানকে নিয়ে কথা বলতে চাইলে তখনও থামিয়ে দেন তিনি।

পরে মন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোকতাদির চৌধুরীকে পিতৃতুল্য বলে উল্লেখ করেন মহিবুল হাসান। পরে মোকতাদির চৌধুরী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে মহিবুল হাসানকে স্নেহ ধন্য ও তাঁর পিতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শ্রদ্ধেয় নেতা বলে উল্লেখ করেন।