নিউজটি শেয়ার করুন

পাহাড়ি সৌন্দর্যের সুবলং ঝর্নার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ!

পাহাড়ি সৌন্দর্যের সুবলং ঝর্নার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ!

রাঙামাটি: পাহাড়ি সৌন্দর্য্যের ​আধার বিখ্যাত সুবলং ঝর্না ঘিরে পর্যটকদের আনাঘোনা যেমন বেড়েছে তেমনি ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এই ঝর্না উপভোগ করার জন্য প্রবেশ মূল্য নেওয়া হলেও ঝর্নার ব্যবস্থাপনায় নেই নূন্যতম কোনো উদ্যোগ। নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা, ও সেবার ব্যবস্থাপনা।

রাঙামাটি সদর হতে মাত্র ২৫ কিলোমিটার অদূরে জলপথে পাহাড়ের বুক চিরে আঁকা-বাঁকা চলার পথে বরকল উপজেলাধীন এই সুবলং ঝর্নায় পর্যটকদের জন্য টিকিটের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের অসাবধানতায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের উপস্থিতিতে সুবলং ঝর্ণাস্থলে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

পাহাড়ি সৌন্দর্যের সুবলং ঝর্নার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ!

সুবলং ঝর্ণার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে। ভরা বর্ষামৌসুমে মূল ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে এবং অপূর্ব সুরের মূর্ছনায় পর্যটকদের সযতনে মুগ্ধ করে। নির্মল জলাধারের হিমশীতল পরিবেশে পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগ করতে এসে যেকোনো মুহুর্তেই বিশাদময় পরিবেশের মুখোমুখি হতে পারেন দর্শনার্থীরা।

প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক টিকিট কেটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখলেও সুবলং ঝর্নাকে নিরাপদ রাখা তথা ঝর্নার প্রবেশমুখ পরিস্কার রাখা, মহিলাদের জন্য সুব্যবস্থা না থাকাসহ পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝর্নায় আগত পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

পাহাড়ি সৌন্দর্যের সুবলং ঝর্নার ব্যবস্থাপনা নিয়ে দর্শনার্থীদের ক্ষোভ!

রাঙামাটির স্থানীয় বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানালেন, এই ঝর্নায় দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন আনন্দ উপভোগ করার জন্য। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একটু দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন। কারণ আগত পর্যটক বা দর্শানার্থীরা অনেক সময় বেখেয়ালের বশে ঝর্নার উপরে উঠতে পাহাড় বেয়ে উঠার চেষ্টা করছে। এতে করে যেকোনো সময় পা পিছলে পড়ে দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে। আমরা চাই সকলেই এখানে আসুক আনন্দ করুক তবে সেই আনন্দের একটা সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত।

ফটিকছড়ি থেকে সুবলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক যুবক জানালেন, ঝর্নাটি খুবই আকর্ষনীয় একটি ঝর্না। এটি দেখতে মূলত রাঙামাটিতে এসেছি। কিন্তু এখানে এসে আমরা দেখলাম শুধুমাত্র ২০ টাকার টিকিট প্রদান করা ছাড়া আর কেউ বা কোনো কর্তৃপক্ষ আমাদের তথা পর্যটকদের দেখভাল করছে না।

অপর পর্যটক জানালেন, এখানে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখলে সকলেই সমানভাবে আনন্দ উপভোগ করতে পারতো। অনেক সভ্রান্ত পরিবারের নারীরা ঝর্নায় এসে পানির স্পর্শ নানিয়েই বোটে বসে থাকতে হচ্ছে। এছাড়া বখাটে যুবকদের উচ্ছৃংখল আচরনের কারনেও পর্দানশীন নারীরা ঝর্নায় নামতে পারছেনা। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পরিবার পরিজন নিয়ে ঝর্নার পানিতে গোসল করতে আসা স্কুল শিক্ষক মঈন উদ্দিন জানালেন, সুবলং ঝর্ণাটি রাঙামাটির অন্যতম একটি পর্যটন স্পট হলেও এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিতান্তই কম।

তিনি জানান, ইয়াং জেনারেশন অত্যন্ত আবেগ প্রবণ বিধায় তারা সবসময় এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হওয়ার চেষ্ঠা করে। তাই উপরে উঠতে আগ্রহী হয়ে উঠে। এখানে যদি বাধা দেওয়ার মতো কোনো কেউ থাকতো তাহলে দূর্ঘটনা রোধ করা যেত।

অপর এক পর্যটক জানালেন, পর্যটন এলাকা হিসেবে সুবলং ঝর্নায় টুরি‌ষ্ট পুলিশ থাকার কথা থাকলেও এখানে তাদের উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের কাউকেও আমরা দেখিনি। তথাপি পর্যটন কর্পোরেশনের কোনো একজনকেও এখানে দেখিনি। তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই যেকোনো মুহুর্তেই এখানে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে।

সুবলং ঝর্নায় আগত পর্যটকদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদানে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল উপস্থিতি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন আগত দর্শনার্থীরা।

আরো পড়তে পারেন:

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments