নিউজটি শেয়ার করুন

নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে দুই মেয়র প্রার্থী

সিপ্লাস প্রতিবেদক: নগরীর আগ্রাবাদে গনসংযোগকালে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, শেখ হাসিনার মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের কোথাও জলাবদ্ধতা থাকবে না।

অপরদিকে নগরীর ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে চট্টগ্রামকে ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

মঙ্গলবার ( ১৯ জানুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গনসংযোগকালে দুই মেয়র প্রার্থী ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দেন।

এই দিনে নগরীর উত্তর ও দক্ষিন আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে গনসংযোগ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। এর আগে তিনি আলকরণ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা তারেক সোলেমান সেলিমের মরদেহ দেখতে যান এবং নামাজে জানাজায় অংশ নেন।

এসময় তিনি মরহুমের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। বাদে জোহর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজায় মরহুমের আত্মীয় পরিজন, মহানগর, থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনসাধারন অংশ  নেন।

গণসংযোগকালে বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেজাউল করিম বলেন, জোয়ারের পানি ও ভারী যানবাহনের কারণে ভঙ্গুর রাস্তাঘাট আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের একটি বড় সমস্যা। চট্টগ্রামের প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় খাল খনন, সংস্কার, পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় মহেশখালকে দখলমুক্ত ও সংস্কার করা হবে। এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে আগ্রাবাদসহ চট্টগ্রামের কোন এলাকাতেই জোয়ারের পানি ও জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না। এক্সেস রোডকে টেকসই ভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে। পোর্ট কানেক্টিং রোডকে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

মেয়র নির্বাচিত হলে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প সমূহ দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহন করব, যাতে ধূলাবালি ও যানজটের বিড়ম্বনা থেকে মানুষ দ্রুত মুক্তি পায়।

বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রামের নতুন এক সমস্যা কিশোর গ্যাং এর প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কিশোরদের খেলাধূলা ও বিনোদনের সুযোগ অতিমাত্রায় সংকুচিত হয়ে পড়ায় এ সমস্যার উদ্ভব হয়েছে।

পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার অংগীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে না হোক, অন্তত যে সকল ওয়ার্ডে খালি জায়গা পাওয়া যাবে ছোট বড় যথাসম্ভব খেলার মাঠ ও বিনোদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে আমি উদ্যোগ নেব এবং নারী ও তরুনরা যাতে আউট সোসিং এ আরো দক্ষতা অর্জন করতে পারে কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেব।

এসময় তিনি নগরবাসীর প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া চান এবং মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামকে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুরন্ত গতিতে অনেক বড় বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। অবহেলিত চট্টগ্রামকে আধুনিক, নান্দনিক, স্বপ্নীল সিটি হিসেবে গড়ে তোলার অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ২৭ জানুয়ারীর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারাকে আরো শানিত করুন।

গণসংযোগে রেজাউল করিমের সাথে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, সৈয়দ মাহমুদুল হক, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, আবদুল আজিজ মোল্লা, আবদুল্লাহ আল ইব্রাহিম, কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী সবুজ, সৈয়দ মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিরাজুল ইসলাম, কাউন্সিলর প্রার্থী নাজমুল হক ডিউক, মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আফরোজা কামাল, মিসেস নুর আক্তার প্রমাসহ এলাকার সর্বস্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে একই দিনে (১৯ জানুয়ারি) দিনব্যাপী নগরীর ২৯ নম্বর পশ্চিম মাদারবাড়ী, ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগকালে এ প্রতিশ্রুতি দেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়ী হলে চট্টগ্রামকে ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রথম সিলেটকে ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে বাস্তবায়ন করতে পারলে, বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামকেও ওয়াইফাই নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শতাধিক পয়েন্টে শক্তিশালী রাউটার স্থাপন করে এটি বাস্তবায়ন সম্ভব। দরকার হলে এজন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হবে। কোনো প্রকার বাফারিং ছাড়াই ইন্টারনেটের গতি স্পিডে এনে পুরো নগর ওয়াফাই শহর হিসেবে গড়ে তুলব। একেকটি এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসঙ্গে পাঁচশ জন যুক্ত থাকার মতো ব্যবস্থা করা হবে।

পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের কদমতলী মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে মাদারবাড়ী ১ ও ২ নম্বর গলি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেইন, টং ফকির মাজার লেইন, মাদারবাড়ী ডিটি রোড়, আইস ফ্যাক্টরি রোড় হয়ে মাদারবাড়ী মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়। পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডের গণসংযোগ মালুম মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে মাঝিরঘাট, নালাপাড়া, স্টেশন কলোনি, আইস ফ্যাক্টরি রোড়, বালিকা স্কুল মোড়, স্ট্যান্ড রোড, সিটি কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ এলাকায় গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

এ সময় ডা. শাহাদাত বলেন, ওয়াইফাই নগরী বাস্তবায়ন হলে একসঙ্গে ১০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টের চতুর্দিকে ১০০ মিটার এলাকায় ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের পড়াশুনা চালিয়ে নিতে পারবে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে গবেষণা বৃদ্ধি পাবে। নিত্য-নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে চট্টগ্রামবাসী পরিচিত হবে।

আওয়ামী লীগের আমলে চট্টগ্রামে কোনো উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে ধূলোবালি উড়ছে। প্রতিদিন কাটা হচ্ছে রাস্তা। এতে সড়কজুড়ে নোংরা পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ দূষিত হওয়ায়, মানুষজনও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, মেয়র হলে বিভিন্ন সেবা সংস্থাকে যখন তখন সড়ক কাটতে দিব না। পরিকল্পিত নগর হবে। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নকর্মীদের সবসময় সড়কে থাকার ব্যবস্থা করব। দিনের ময়লা, দিনেই পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করব। চট্টগ্রাম নগরকে এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে অন্য সিটির মানুষেরা চট্টগ্রামকে দেখতে আসে।

গণসংযোগে অংশ নিয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, নির্বাচনের মাঠে নেমে হালে পানি পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের প্রার্থী। সস্তা সহানুভূতি পেতে বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে থাকার কৌশল নিয়েছেন তিনি। আমরা জানি এই নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হবে না। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান রেখে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি। তিনি চসিক নির্বাচনকে উৎসবমুখর ও অবাধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সদস্য জয়নাল আবেদিন জিয়া, গাজী সিরাজ উল্লাহ, কামরুল ইসলাম, সদরঘাট থানা বিএনপির সভাপতি ও পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী সালাউদ্দিন, নগর বিএনপি নেতা মশিউল আলম স্বপন, মো. আলী, সদরঘাট থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান, মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী কামরুন্নাহার লিজা, আরজুন নাহার মান্না, বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, নুর উদ্দিন হোসেন নুরু, কাউসার হোসেন বাবু, পশ্চিম মাদারবাড়ী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এম এ মুছা বাবলু, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, বিএনপি নেতা মো. ইলিয়াছ, খোরশেদ আলম, আব্দুর রহিম, মাহবুব আলম, নাছির উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, ওমর ফারুক রুবেল, সিরাজ মিয়া, মো. জাহিদ, মো. শাহজান, আলমগীর সিরাজ, মো. রাশেদ, তসলিমুর রহমান, মোহাম্মদ তৈয়ব, মো. শাহআলম, কমল জ্যোতি বড়ুয়া, নুর জাহেদ বাবলু, সালাউদ্দিন জুয়েল, সাজ্জাদ সাজু, মোহাম্মদ আজম, মো. রাজিব, আনোয়ার আবেদিন মুন্না, ইউনুচ মিয়া জুয়েল, মো. নাহিদ. নাঈম উদ্দিন, মো. তানভীর, মো. সোহেল মো. আলী, মো. সুমন প্রমুখ।