নিউজটি শেয়ার করুন

নগরীর পাঁচ প্রবেশ পথে দম নেওয়ার সুযোগ নেই

সিপ্লাস প্রতিবেদক: বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। দেশের প্রধান অর্থনৈতিক অঞ্চল। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি কিংবা জীবিকার খোঁজে এখানে প্রতিদিন বিপুল মানুষের যাতায়াত। কিন্তু নগরীতে ঢোকার মুখেই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। পাঁচটি প্রবেশমুখ পরিণত হয়েছে অস্থায়ী টার্মিনালে। বিশৃঙ্খল পরিবেশ আর যানজটে এসব প্রবেশ পথ থাকে অবরুদ্ধ।

শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় এসব এলাকা এখন ধুলায় ধূসর। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। যা বেশ উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুস রোগসহ নানা জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী।

গাড়ি রাখা, যাত্রী ওঠা-নামা, গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এমন ভোগান্তির মধ্যে নেই মানুষের দম নেওয়ার সুযোগ।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ প্রবেশমুখ সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিদিনই এসব দুর্ভোগ লেগে থাকে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা। যানজট ও ধুলাবালুর জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন বাসিন্দারা। এ জন্য সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগকেও দুষছিলেন তাঁরা।

চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচ প্রবেশমুখ হচ্ছে-অক্সিজেন মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা,  কালুরঘাট সেতুর শহর প্রান্ত, শাহ আমানত সেতুর শহর প্রান্ত ও এ কে খান মোড়।

বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া বলেন, আন্তজেলা বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা আনা গেলে এবং অনিবন্ধিত, ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রবেশমুখের বিশৃঙ্খলা দূর হবে। এ জন্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। আর ধুলার মূল কারণ উন্নয়নকাজ।

অক্সিজেন মোড়

নগরীর অক্সিজেন মোড় ও হাটহাজারী সড়কের নতুনপাড়া ব্রিজ এলাকায় যানজট নিত্যদিনের চিত্র। বাস–টার্মিনাল না থাকায় অক্সিজেন মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। রাস্তার ওপর এলোপাতাড়ি গাড়ি রাখা, স্থায়ী বাস–টার্মিনাল না থাকার অক্সিজেন মোড়ে যানজট লেগে থাকে। স্থানীয়রা জানান, যানজট তো আছেই। তার সাথে রয়েছে শব্দ ও বায়ুদূষণ।

কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও কালুরঘাট সেতু

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ওপর এলোপাতাড়িভাবে রাখা হয়েছে গাড়ি। দুই পাশের খালি জায়গায়ও গাড়ি। কোনো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে যাত্রীর জন্য। কোনোটির চলছে মেরামতের কাজ। গাড়ি রাখার ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা মানার গরজ নেই চালকদের। যাত্রীবাহী মিনিবাসগুলোর একটি আরেকটিকে কোনোভাবেই সামনে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছিল না। আবার সামনে যাওয়ার জন্য অনবরত হর্ন দিয়ে চলছেন পেছনের গাড়িচালক। এর মধ্যে বিপজ্জনকভাবে চলছে যাত্রী ওঠা-নামা।

এই পথ দিয়ে চট্টগ্রামের পটিয়ার একাংশ এবং বোয়ালখালী উপজেলার লোকজন নগরে আসা-যাওয়া করেন। এই চিত্র প্রতিদিনের বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানি ও গাড়িচালকেরা। তাঁরা জানান, সেতুর ওপর ট্রেন চলাচল করলে গাড়ির জট কখনো কখনো ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়।

কালুরঘাট খেজুরতল এলাকা থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে নগরের আরেকটি প্রবেশমুখ কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায়ও সারাক্ষণ গাড়ির জট লেগে থাকে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও রাঙামাটির কাপ্তাই থেকে যাত্রীরা এই পথ দিয়ে নগরে প্রবেশ করেন। এসব এলাকা থেকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশার অস্থায়ী স্টেশনে পরিণত হয়েছে নগরীর কাপ্তাই রাস্তার মাথায়।

নগরীর এই দুই প্রবেশমুখে থাকা দোকানিরা জানান, গাড়িচালকেরা তাঁদের দোকানের সামনেই গাড়ি রেখে দেন। ক্রেতাদের চলাচলের সমস্যা হয়। আবার এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে ধুলাবালু উড়তে থাকে। এসব কারণে তাঁদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে।

শাহ আমানত সেতুর শহর প্রান্ত

প্রতিদিন দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের হাজার হাজার যাত্রী এই মোড় দিয়ে নগরে প্রবেশ করে। হাজার হাজার মানুষের বিচরণ থাকে ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত। তাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অবস্থা কাহিল হওয়ার উপক্রম। কারণ, যানজট স্থানীয় বাসিন্দাদের স্থবির করে ফেলেছে। এর সঙ্গে ধুলাবালুর উৎপাত তো রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে সেতু-সংলগ্ন গোলচত্বর চারদিকে অসংখ্য গাড়ি এলোপাতাড়ি দেখা গেছে। ট্রাফিক আইন মানার কোনো নিয়মকানুন তাগিদ নেই। সেতুমুখী একটির পেছনে আরেকটি বাস যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিল। ফলে পেছনের গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই চিত্র দেখা যায় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

এ কে খান মোড়

চট্টগ্রামে প্রবেশের অন্যতম দ্বার এ কে খান মোড় থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের বাসগুলো ছেড়ে যায়। রাস্তায় পার্কিং করা বাসগুলোতে ডেকে তোলা হয় যাত্রী। কার আগে কে যাত্রী নেবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। যাত্রী তোলার কারণে পেছনের গাড়িগুলো আটকে থাকতে দেখা গেছে।

ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে উন্নয়ন কাজ, সিগন্যাল বাতি না থাকা এবং চালক, মালিক ও যাত্রীদের অসচেতনতার কারণে যানবাহনে পুরোপুরি শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি মাসে আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলার বিপরীতে জরিমানা আদায় করছে ট্রাফিক পুলিশ।