নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে ৬ কোম্পানিকে করোনার সম্ভাব্য ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি

সিপ্লাস ডেস্ক: ছয়টি ওষুধ কোম্পানিকে দেশে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। কোম্পানিগুলো হলো- বেক্সিমকো, বীকন, এসকেএফ (এসকে-এফ), ইনসেপ্টা, স্কয়ার ও হেলথকেয়ার।

দেশের বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোম্পানিগুলোকে এই ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, কাঁচামাল আমদানি করে এ মাসের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করবে এসকে-এফ ও বেক্সিমকো।

ওষুধগুলো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হবে কি না, সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওষুধটির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করার পরই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রেমডেসিভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ। ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি (Replication) কমায় এ ওষুধ। ‘রেমডেসিভির’ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আশাব্যঞ্জক কথা শোনা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কিছু দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ‘রেমডেসিভির’ ব্যবহার করা হচ্ছে। সার্স ও ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বেশ ভালো কাজ করার ইতিহাস রয়েছে ওষুধটির। গত বুধবার করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরীক্ষামূলক ওষুধ ‘রেমডেসিভির’ নিয়ে আশার কথা বলেছিলেন মার্কিন গবেষকেরা। ওষুধটি নিয়ে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৩০ শতাংশ দ্রুত রোগীর সেরে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যায়।

সারা বিশ্বের হাসপাতালগুলোর সঙ্গে যুক্ত একটি মার্কিন পরীক্ষায় প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, রেমডেসিভির প্রয়োগে সেরে ওঠার সময় ১৫ দিন থেকে ১১ দিনে নেমে এসেছে। সাধারণ ফ্লুর ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জার ওষুধ তামিফ্লু যে প্রভাব ফেলেছে, এটি তার অনুরূপ।

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশন ডিজিজেসের পরিচালক অ্যান্টনি এস ফাউসি বলেছেন, তথ্য বলছে, রেমডেসিভির দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পরিষ্কার।

রেমডেসিভির প্রধান কাজ হলো– মানব কোষে ঢোকার পর ভাইরাস যে বংশবৃদ্ধি করে তা বন্ধ করে দেয়া ও বংশবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়া।

করোনাভাইরাসের বংশবৃদ্ধিতে ভাইরাল আরএনএ ডিপেনডেন্ট আরএনএ পলিমারেজ এনজাইম প্রয়োজন। রেমডেসিভির এই এনজাইমকে ব্লক করে। ফলে ভাইরাসের বিস্তার কম হয়। বংশবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় আক্রান্ত রোগীর দেহে ভাইরাস লোড অনেক কমে যায়। ফলে তাদের হাসপাতালে অপেক্ষাকৃত কম দিন অবস্থান করতে হয়। মৃত্যুর হার ১১ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে নেমে আসে।

করোনাভাইরাস আমাদের ফুসফুসের কোষে ঢোকার পর কোষের বংশবৃদ্ধির উপাদানগুলো ছিনতাই করে বংশবৃদ্ধি করতে থাকে। একটা ভাইরাস মুহূর্তেই লাখো ভাইরাসের জন্ম দেয়। একসময় এই ছোট ছোট ভাইরাস কোষকে ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে বের হয় এবং পাশের নতুন একটি কোষকে আক্রমণ করে এবং আবার বংশবৃদ্ধি করতে থাকে।

এভাবেই করোনাভাইরাস আমাদের ফুসফুসকে ধ্বংস করে মাত্র কয়েক দিনে। আর তাই রোগী শ্বাস নিতে পারেন না।

সাধারণত রেমডেসিভির ইনজেকশন কোভিড-১৯ রোগীর দেহে প্রয়োগ করা হয়। ১০ দিনের কোর্স। প্রথম দিন ২০০ মিগ্রা ইনজেকশন পরবর্তী ৯ দিন ১০০ মিগ্রা।