নিউজটি শেয়ার করুন

দুর্বৃত্তায়িত অধঃপতিত ফ্যাসীবাদী দুঃশাসনের বিপরীতে জনগণের রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলুন

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও মহান রুশ বিপ্লব ১০৩ তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাসদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে সমাবেশ পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার সুর্বণ জয়ন্তী’র প্রাক্কালে পুঁজিবাদী শোষণে সাম্যের বদলে পাহাড়সম বৈষম্য, মানবিক মর্যাদার জায়গায় মর্যাদাহীনতা ও সমাজিক ন্যায় বিচারের বদলে বিচারহীনতার চুড়ান্ত রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মানুষ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। লড়াই করছে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে। মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মহামারি মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ মানুষকে হতাশ করেছে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য দশা আরো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, এইদেশে একশ্রেণির মানুষের ভোগবিলাসের সুযোগ থাকলেও গরিব সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুবিধা এই রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে পারেনি। একদিকে আমরা দেখছি আকাশ ছোঁয়া উন্নয়ন অন্যদিকে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে বৈষম্যের পাহাড়। মানুষের দুর্দশার আজ অন্ত নেই। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত দেশ। শাসকদল এই অতিমারীতে জনগণের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার দায়িত্ব তো নেয়ই নি, উল্টো আমরা দেখলাম কোভিড ১৯ পরীক্ষা না করেও শত শত কোটি টাকা জনগনের পকেট থেকে নিয়ে গেছে একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। স্বাধীনতার ৫০ তম বছরর দ্বারপ্রান্তে এসে রাষ্ট্রীয় ২৫টি পাটকলের মৃত্যুঘন্টা বাজানো হল। অতীতের মতোই তার দায় চাপানো হল শ্রমিকদের উপর। সরকারের দুর্নীতি ও ভূলনীতির দায় অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়মুক্ত হতে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করে ৫০ হাজার শ্রমিককে বেকার করা হয়েছে। অথচ পাটের সম্ভাবনা বাড়ছে দেশে এবং সারাবিশ্বে। প্রতি বছরে পাট উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ৬০ হাজার টন। অথচ এই রাষ্ট্রীয় শিল্পকে ধ্বংস করা হয়েছে পুঁজিপতিদের মুনাফার স্বার্থে ।

বক্তারা বলেন, সারা দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। গুম-খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিলেট,নোয়াখালী সহ সারাদেশে নারী-নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা দেশবাসীকে হতবাক করেছে। অতীতের ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধীরা বেপরোয়া হলেও ক্ষমতার ছত্রছায়ায় তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়ে শাসক গোষ্ঠী উন্নয়নের ঢেকুর তুলছে। রাতের আঁধারে নির্বাচিত সরকারের জনগণের প্রতি কোনো দায় বোধ নেই।

বক্তারা আরো বলেন, ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে শোষণমূলক, পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী, সমাজব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা আমাদের লড়াই অব্যাহত রেখেছি। মানুষের মৌলিক গনতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায়, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুন্ঠন প্রতিরোধ, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কৃষকের পণ্যের ন্যায্য দাম প্রাপ্তি, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আমরা আমাদের সংগ্রাম পরিচালনা করছি। আমাদের এই সম্মিলিত লড়াই-সংগ্রামের আঘাতে শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটাবোই।সমাবেশে বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাসদ চট্টগ্রাম জেলা সদস্য কমরেড নুরুল হুদা নিপু, কমেরড হেলাল উদ্দিন কবির, আকরাম হোসেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর সাধারণ সম্পাদক ঋজু লক্ষী অবরোধ। পরিচালনা করেন সদস্য রায়হান উদ্দিন।

সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে দোস্ত বিল্ডিং দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।