নিউজটি শেয়ার করুন

‘দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে’

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ভিন্ন অবস্থান

‘দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে’

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ। চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্যও তিনি।

এদিকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী আন্দোলনেরও অগ্রসেনানী।

চট্টগ্রাম সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে এখন দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকার ভিন্ন চিত্র সকলের কাছে দৃশ্যমান।

শুরু থেকেই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষের অবস্থানে ছিলেন মফিজুর রহমান। আর মোছলেম উদ্দিন হাসপাতাল নির্মাণে বিরোধীতা না করলেও পক্ষেও তার তেমন কোন জোরালো ভূমিকা ছিল না।

শনিবার (২৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম সম্মিলিত কর আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মোছলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষে হঠাৎ নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরে সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিলেন তিনি।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিপরীত অবস্থান নিয়ে নানাজনের নানা মন্তব্যে ‘আজ দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে’ এমন কথাও উচ্চারিত হচ্ছে।

সম্মিলিত কর আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের আলোচনায় চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে উদ্দেশ্যমূলক ও হীনস্বার্থের আন্দোলন বলে অভিহিত করে এই হাসপাতাল স্থাপনের বিরোধিতা কোনমতেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন মোছলেম উদ্দীন আহমদ। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর বিরোধিতা করা মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধিতা করা।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছায় পিপিপির মাধ্যমে সিআরবি এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। যেখানে বর্তমানে কিছু ঝুপড়ি ঘর ও দোকানপাট রয়েছে। অথচ এক শ্রেণির লোক কিছু না বুঝে হীন স্বার্থে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করে যাচ্ছে। এই এলাকায় যখন সিএনজি ফিলিং স্টেশন করা হয়েছে তখন বিরোধিতা করা হয়নি। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে, তখন বিরোধিতা করা হয়নি কেন? প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন হাসপাতাল মালিকের ইন্ধনে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যা কাম্য নয়। উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশের বিষয়ে ছাড় দিতে হবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, সভাপতির সাথে আমার দৃষ্টিভঙ্গির মিল নেই।পুরো সিআরবি এলাকা মাস্টার প্ল্যানের আলোকে ২০০৯ সালে সিডিএ প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানভুক্ত (ড্যাপ)। এ সিআরবিকে ‘সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য’ হিসেবে সংরক্ষণের কথা উল্লেখ আছে। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা আছে, বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত স্মৃতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য যে ৬ একর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে রয়েছে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাকসু) জিএস আবদুর রব সহ অসংখ্য শহীদের সমাধিস্থল। এখানে হাসপাতাল হলে শহীদের স্মৃতিস্তম্ভও বিলীন হয়ে যাবে। শহীদ আবদুর রবের নামে থাকা রেলওয়ে কলোনিটিও ধ্বংস হয়ে যাবে। একই সঙ্গে হারিয়ে যাবে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন রফিকের তৎকালীন কমান্ড অফিস কাঠের বাংলোটি। ওরা বলছে হাসপাতাল হলে গাছ কাটা পড়বে না। অথচ হাসপাতাল নির্মাণের নির্ধারিত স্থানেই আছে শতবর্ষীসহ তিনশ গাছ।

মফিজুর রহমান আরও বলেন, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার জন্য ২০১৭ সালে আহূত ইনভাইটেশন ফর বিড (আইএফবি) নোটিশে প্রকল্পের স্থান হিসেবে সিআরবির নাম ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করে এটার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতাল করতে দেবেন না। এটা যে হেরিটেজ এরিয়া এবং এখানে যে শহীদের কবর রয়েছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়নি। তিনি প্রকৃতিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রকৃতি ধ্বংস করে শহীদের কবরের উপর কোনদিন হাসপাতাল করবেন না। যারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তথ্য গোপন করেছেন তাদের বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে আবারও মতামত জানতে চাইলে মোছলেম উদ্দীন আহমদ সিপ্লাসকে বলেন, সবার দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম হতে পারে না। রাজনীতি করলে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। চট্টগ্রামের ইমপেরিয়াল ও ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বায়েজিদ লিংক রোডসহ আরো অনেক কিছু নির্মাণ করা হয়েছে গাছ ও পাহাড় কেটে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ বান্ধব। একটি গাছ কাটা হলে প্রয়োজনে ১০০টি গাছ লাগানো হবে। দলের মানুষের মুখে বিরোধী দলের ভাষা বেমানান। সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments