নিউজটি শেয়ার করুন

দুই সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে বাধাগ্রস্ত চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ

ওভারহেড লাইন না সরানোর ফলে গার্ডার বসাতে অসুবিধা: সিডিএ, দেরিতে জানানোর ফলেই লাইন সরানো নিয়ে জটিলতা: পিডিবি

দুই সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে বাধাগ্রস্ত চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ

জিয়াউল হক ইমন: রাজধানী ঢাকার পর বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ।

৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৫৪ ফুট প্রস্থের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত চট্টগ্রামের অন্যতম এই মেগাপ্রকল্প।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি’র সমন্বয়হীনতার জন্য নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে শঙ্কা।

এ নিয়ে দুষছেন এক সংস্থা অপর সংস্থাকে।

মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে দেওয়ান হাট থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, চলমান আছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় যাত্রী ও এলাকাবাসীর দুভোর্গের শেষ নেই বলে জানিয়েছে একাধিক এলাকাবাসী ও পথচারী। তবু দ্রুত এ কাজ শেষ করে এই প্রকল্পের সুফল পেতে চায় তাঁরা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস সিপ্লাসকে জানান, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ প্রায় ৬০ শতাংশ শেষ। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ৩৭৫টি স্প্যানের মাঝখানে বসার কথা ৩ হাজার গার্ডার। এর মধ্যে পতেঙ্গা অংশে ৬০০টি বসানো হয়েছে। বর্তমানে আগ্রাবাদ এলাকায় বিদ্যুতের ১৩টি ওভারহেড লাইন থাকায় গার্ডার বসা নিয়ে শঙ্কায় আছি। আমরা বিদ্যুৎ ওভারহেড লাইন সরানোর জন্য টাকা দিয়েছি। তারপরও তারা এখনো সরাতে পারেনি। বিদ্যুত বিভাগ গাফেলতি না করে দ্রুত ওভারহেড লাইন সরালে নির্দিষ্ট সময় ২০২৩ সালে কাজ শেষ করার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রামবাসীর জন্য এই প্রকল্প সুফল বয়ে আনবে বলে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী আরো বলেন, এ প্রকল্পের অধীনে ৯টি জংশনে ২৪টি র‌্যাম্প (গাড়ি ওঠানামার পথ) নির্মাণের কথা রয়েছে। এর মধ্যে নগরীর লালখানবাজার থেকে শুরু হওয়া প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েতে টাইগারপাসে ৪টি, আগ্রাবাদে ৪টি, বারিক বিল্ডিং মোড়ে ২টি, নিমতলা মোড়ে ২টি, কাস্টমস মোড়ে ২টি, সিইপিজেডে ৪টি, কেপিজেডে ২টি, কাঠগড়ে ২টি ও পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ২টি র‌্যাম্প থাকবে। চার লেনের এই এক্সপ্রেসওয়ের প্রশস্ততা হবে ৫৪ ফুট। এ ছাড়াও এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে আড়াই হাজার এলইডি লাইট।

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু সিপ্লাসকে বলেন, দেরিতে জানানোর ফলেই লাইন সরানো নিয়ে জটিলতা হচ্ছে। ২০১৭ সালে হাতে নেওয়া এই প্রকল্প ২০১৯ সালে শুরু হলেও আমাদের জানিয়েছে ২০২০ সালে। তবু আমরা বিভিন্ন এলাকাভেদে ওভারহেড লাইন সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। হঠাৎ করে এ কাজ করা যায় না। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কাজ করতে হয়। তারপরও সিডিএ আমাদের সাথে বসার পরও আমাদের কেন দোষ দিচ্ছেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আশা করি এই প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করতে পারবে। আমাদের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত: চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের ১১ জুলাই ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। অনুমোদনের দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটির পিলার পাইলিং কাজের উদ্বোধন করেন। তখন ২০২০ সালের মধ্যেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে তিন কিলোমিটার অংশের অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

আরও বিস্তারিত জানতে ভিডিওতে ক্লিক করুন…

আরো পড়তে পারেন:

চমেকের নালা থেকে দুই নবজাতকের লাশ উদ্ধার

সীতাকুণ্ডে মাদার স্টিল শিপ ইয়ার্ডে দূর্ঘটনায় ব্যবসায়ী নিহত

৩ ছাত্রী নিখোঁজ: ৪ শিক্ষক আটক, মাদ্রাসা বন্ধ

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এবার অনশনে বসেছে বাংলাবাজার ঘাটের সাম্পান মাঝিরা

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments