নিউজটি শেয়ার করুন

জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের আলোচনা সভা

সম্মিলিত ঐক্যের ভিত্তিতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে : আ.জ.ম নাছির

জেএম সেন হলে জন্মাষ্টমী উৎসবের আলোচনা সভা

সিপ্লাস ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, হাজার বছর ধরে সর্বধর্মীয় ঐক্যের শক্তিতে বীর বাঙালী নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে আসছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের পারস্পরিক সহাবস্থান এই ভূখন্ডের চিরকালীন ঐতিহ্য। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর বেদীমূলে দাঁড়িয়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। যুগে যুগে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি নানা অপকর্ম চালিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এখনো সেই অপশক্তি নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদেরকে সম্মিলিত শক্তি নিয়ে, সম্মিলিত ঐক্যের ভিত্তিতে এই অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।

তিনি আজ ৩০ অক্টোবর (সোমবার) নগরীর জেএম সেন হলে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ-বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত জন্মাষ্টমী উৎসবের ১ম পর্বের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শিল্পপতি সুকুমার চৌধুরীর ভার্চুয়াল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করেন চট্টগ্রাম রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শক্তিনাথানন্দ মহারাজ ও শ্রীমৎ রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ।

উদ্বোধক ছিলেন জন্মাষ্টমী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুজিত কুমার বিশ্বাস।

প্রধান বক্তা ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত।

সুমন দেবনাথের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. চন্দন তালুকদার ও বিমল কান্তি দে, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি লায়ন আশীষ কুমার ভট্টাচার্য।

উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী, আনন্দ মোহন রক্ষিত, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম, সাধন ধর, মাইকেল দে, লায়ন দুলাল চন্দ্র দে, চন্দন দাশ, লায়ন তপন কান্তি দাশ, অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী, রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, অমিত চৌধুরী, তাপস কুমার নন্দী, কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, পুলক খাস্তগীর, রুমকি সেনগুপ্ত, প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, ডা. বিধান মিত্র, সাধন চৌধুরী, রবিশংকর আচার্য্য, বিপ্লব কুমার চৌধুরী, রতন আচার্য্য, আশীষ চৌধুরী, লায়ন সন্তোষ নন্দী, লিটন কান্তি দত্ত, শিবু প্রসাদ দত্ত, প্রদীপ শীল, মিথুন মল্লিক, সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, এস প্রকাশ পাল, সজল দত্ত, অ্যাড. টিপু শীল জয়দেব, অজিত কুমার দাশ, সলিল কান্তি গুহ, ডা. বিজন কান্তি নাথ, ঊষা আচার্য্য, লায়ন মীননাথ ধর, পরিমল দত্ত, সুকান্ত মহাজন টুটুল, বাপ্পী নন্দী, নিউটন কান্তি দে, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, বিশ্বজিৎ রায়, রিপন রায়, সবুজ দাশ, প্রকৌঃ অমিত ধর, প্রকৌঃ সৈকত দাশ, অমিত ঘোষ, সৌরেন দত্ত প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক বিভিন্ন মঠ-মন্দির ও অনাথ আশ্রমের প্রতিনিধিদের মাঝে এক বস্তা চাল, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা অ্যাড. রানা দাশগুপ্ত বলেন, ধর্মকে আমরা ধারণ করবো আমাদের আত্মবুদ্ধি ও আত্মবিকাশের জন্য কিন্তু কখনো ধর্মান্ধতাকে নয়। ধর্মান্ধতা মানুষকে অজ্ঞতা ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। ধর্ম হচ্ছে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য। অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শকে ধারণ করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments