নিউজটি শেয়ার করুন

জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় শ্রমিকের জীবনের দাম নেই!

সিপ্লাস প্রতিবেদক:  বারে বারে শ্রমিকরা দূর্ঘটনায় পড়ে মারা গেলেও জিপিএইচ ইস্পাত কারখানা কতৃপক্ষ শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়কে পাত্তাই দিচ্ছেনা। ফলে একের পর এক পুড়ছে আর মরছে সীতাকুণ্ডের জিপিএইচ ইস্পাত কারখানার শ্রমিক।

নিহতের ঘটনা তদন্ত করতে কখনো কারখানায় যায় নি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ।

চলতি বছরে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ কোনটিরই মামলা নেয়নি। একারণে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে শ্রমিক মৃত্যুর আলামত। অপমৃত্যু মামলাতেই ঢাকা পড়ছে কারখানার শ্রমিক নিহতের ঘটনা। অন্যদিকে কারখানা কতৃপক্ষও নিহত শ্রমিক পরিবারের দায়ভার নিচ্ছেনা।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটায় সীতাকুণ্ডের জিপিএইচ ইস্পাত কারখানায় কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন  ৩৫ বছর বয়সী শ্রমিক নাম মো. মোস্তফা। আহত হয়েছেন মো. রাশেদ নামের আরেক শ্রমিক।

জানা গেছে, কারখানায় মেইনটেইনেন্স কাজ করার সময় প্যাডেলের ধাক্কা লেগে এ দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রাশেদের অবস্থাও আশংকাজনক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, জিপিএইচ কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং কারখানার অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতার কারণে প্রতিনিয়ত শ্রমিক নিহত হচ্ছে। এ নিয়ে প্রশাসন কিংবা কারও মাথা ব্যথা নেই। উল্টো হয়রানি হওয়ার ভয়ে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায়ও যাওয়া যায় না। শুধু লাশ বহনের অ্যাম্বুলেন্সটি দিয়ে লাশটি নিয়ে যান বাড়িতে।

এ বিষয়ে জানতে জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলমাস শিমুলকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে কথা বলা যায়নি কতৃপক্ষের কারো সাথে।

উল্লেখ্য,  ১৯ অক্টোবর ছয় শ্রমিক দগ্ধ হওয়ার মাত্র এক মাস আগেই গত ২২ সেপ্টেম্বর জিপিএইচ ইস্পাতের কারখানায় লোহার উত্তপ্ত লাভায় দগ্ধ হন শাহীন আলম (২৭), টিপু সুলতান (৩২), শহীদুল ইসলাম (২৭), নুরুজ্জামান (৪০), আমীর হোসেন (২৭), রবীন্দ্র (৪০) ও ভারতীয় নাগরিক কেওয়াল সিং চৌহান (৪৬)।  মৃত্যুর কারন হিসাবে কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন শ্রমিকরা।

এছাড়া ১০ এপ্রিল ভোরে লৌহজাত পণ্য লোডিংয়ের সময় লোহার পাতের চাপায় নিহত হন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জিপিএইচের কারখানার শ্রমিক রণজিৎ বর্মন। ৫ আগস্ট বিকেলে বিদ্যুৎস্পষ্টে নিহত হন মমতাজ উদ্দিন (২৮) এবং আব্দুর রশিদ মাঝি (২৭)।