নিউজটি শেয়ার করুন

চিরচেনা রুপে নগরীর ফুটপাত, ঘুরে দাঁড়াতে চায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

চিরচেনা রুপে নগরীর ফুটপাত, ঘুরে দাঁড়াতে চায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

মো: মহিন উদ্দীন: দীর্ঘ ১৮ মাস করোনা লকডাউনের কারণে বন্ধ থাকা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ফিরেছে চিরচেনা রুপে। এ সময়ে বন্ধ থাকা ব্যবসা-বানিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হোটেল-মোটেল, পর্যটনসহ সব খাতই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আগস্টের ১২ তারিখ থেকে সরকার লকডাউন তুলে নেয়ায় স্বস্থি ফিরেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মনে।

নগরীর ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্তোরাঁসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় জড়িত বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রানচাঞ্চল্য। এখন লকডাউন শেষে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ মরিয়া হয়ে উঠেছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের এমন দাবী ব্যবসায়ীদের।

চিরচেনা রুপে নগরীর ফুটপাত, ঘুরে দাঁড়াতে চায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
করোনার প্রভার পড়েনি মাছ চাষ এবং সবজির খামারীদের মাঝে। কারণ যারা সবজি ও মাছ চাষ করেছিলেন তাদের ব্যবসা ভাল চলেছে করোনাকালীন সময়েও। পাশাপাশি আরও ভাল ব্যবসা হয়েছে ফার্মেসী ব্যবসায়ীদের ।এমনটাই দাবী নগরীর নানা ক্ষুদ্র ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ীরা বলছেন, আর্থিক ক্ষতির কারণে ইতিমধ্যে অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা খোলা ,বন্ধ থাকার ওপর নির্ভর করছে তাঁর লাভ- লোকসান। যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেছিল তাদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আবার সুযোগ  এসেছে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠে দাঁড়ানোর।এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ধীরে ধীরে ব্যবসা চালিয়ে অন্তত ঋণটা যেন পরিশোধ করা।

নগরীর আন্দরকিল্লার পুস্তুক ব্যবসায়ীরা বলেন, গত দেড় বছর বাংলাদেশের একাডেমিক এবং সৃজনশীল প্রকাশনা ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান প্রায় কোটি কোটি টাকার বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন দিতে পারেনি লকডাউনের প্রায় পুরা সময়জুড়ে। নগরীর  অনেক বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারীরা নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব স্কুল-কলেজ খুলছে। আশা করি আগের অবস্থায় ফিরতে পারব এবং যে পরিমাণের ক্ষতি হয়েছে তা তো একেবারে পুষিয়ে নিতে পারব না, আস্তে আস্তে ব্যবসা করে যতটা পারা যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে।সবার মত আমরাও ব্যবসায়ীক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অনেকের ব্যবসায়ীক উন্নতির সাথে আমাদের ব্যবসার উন্নতি নির্ভর করছে।

রেস্টুরেন্টের মালিকরা বলেন, করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ খাত রেস্তোরাঁ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে কর্মী ছাটাইসহ নানান পন্থায় রেস্তোরাঁ খুলে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। রেস্তোরাঁ ভাড়া, কর্মী বিল, ইউটিলিটি ইত্যাদি দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এখন খুবই কষ্টসাধ্য। এ সময় আমরা কর্মচারী কমিয়েছি। তবুও ব্যবসা চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এরপরও সরকারি নির্দেশনা মেনে পার্সেল বা অনলাইনে ডেলিভারি করে আমরা কিছুটা ক্ষতি পোষাতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু অনলাইন ডেলিভারি করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রিয়াজউদ্দীন বাজারের আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী সিপ্লাসকে বলেন, করোনায় তেমন সমস্যা হয়নি সবজির খামারীদের। তাই তেমন দামও বাড়েনি কাচাঁবাজারে।

রিয়াজউদ্দিন বাজার তামাকুন্ডি লেইন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও তামাকুন্ডি লেইন বণিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক আরিফুর রহমান সিপ্লাসকে বলেন, লকডাউন শেষে এবার ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টায় রয়েছে।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান বলেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দোকানপাট বন্ধ থাকায় একদিকে বিপাকে ছিল মালিকেরা, অন্যদিকে কর্মচারীদেরও ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ছিল। এখন  স্বস্থি ফিরে আসছে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মাঝে।

রিয়াজ উদ্দীন বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো: মাহাবুল আলম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। আশা করি এবার ক্ষতিগ্রস্থ সব ব্যবসায়ীরা অন্তত ঘুরে দাঁড়াবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments