নিউজটি শেয়ার করুন

চসিক নির্বাচনে আ. লীগের বিদ্রোহী সাবেক ১২কাউন্সিলরই আ জ ম নাছিরের অনুসারী

শাহরুখ সায়েল: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ১২ কাউন্সিলর। এই ১২কাউন্সিলরদের সবাই সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।

তবে আ জ ম নাছির তার অনুসারী সকল বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচন না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে বাদ পড়েন ১৫ জন কাউন্সিলর। ইতিমধ্যেই এই ১৫ জনের মধ্যে ১২ জনই বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের মাঠে লড়াই করছেন।

তারা সবাই নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চসিক নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরও সেই বারো কাউন্সিলরও আছেন ভোটের মাঠে।

১নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ গাজী মোহাম্মদ শফিউল আজিম কে সমর্থন করলেও এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আ.জ.ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী বর্তমান কাউন্সিলর তৌফিক আহমদ চৌধুরী।

২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এই ওয়ার্ডেও বিদ্রোহী প্রার্থী নাসরি অনুসারী বর্তমান কাউন্সিলর মো: সাহেদ ইকবাল (বাবু) ৯নং উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবীদ নুরুল আবছার মিয়া‘কে।

এখানেও বিদ্রোহী প্রার্থী নাসির বলয়ের বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ জহুরুল আলম জসিম।তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ভূমিদখল, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের।

কয়েকদিন আগে পুলিশের উপর হামলাকারী গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সন্ত্রাসী নুর ‘কে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

১১ নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: ইসমাইল। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীও আ.জ.ম নাসিরের অনুসারী বর্তমান কাউন্সিলর মোর্শেদ আকতার চৌধুরী।

১২ নং সরাইপাড়া ওয়ার্ডেও একই চিত্র আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মো: নুরুল আমিন’কে।কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন বর্তমান কাউন্সিলর মো: সাবের আহম্মেদ । তিনিও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাসিরের অনুসারী।

১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. বেলাল। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান কাউন্সিলর আবুল ফজল কবির আহমেদ।

২৫ নং রামপুরা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বর্তমান কাউন্সিলর এস এম এরশাদ উল্লাহ। তিনি আ.জ.ম নাসিরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বানে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছেন।

২৭ নং দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মো: শেখ জাফরুল হায়দার চৌধুরী’কে।এখানেও বিদ্রোহী প্রার্থী আ.জ.ম নাসিরের অনুসারী বর্তমান কাউন্সিলর এইচ.এম. সোহেল।

২৮ নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর। এ ওয়ার্ডেও আওয়ামী লীগের বিষফোঁড়া নাসির অনুসারী বর্তমান কাউন্সিলর মোহাম্মদ আবদুল কাদের।

১২ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর গনসংযোগে হামলা ও গুলিবর্ষণে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

৩০ নং পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আতাউল্লাহ চৌধুরী। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর চৌধুরী জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

৩১ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুস সালাম। এই ওয়ার্ডেও বিদ্রোহী প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি বর্তমান কাউন্সিলর তারেক সোলায়মান সেলিম।

৩৩নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে।কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী যুব লীগের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বর্তমান কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব। নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার।

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনড় অবস্থানের কারনে অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা । নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে বিষয়টি ততই জটিল আকার ধারণ করছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সংঘাত বাড়ছে। এর মধ্যেই মঙ্গলবার(১২জানুয়ারী) নগরীর পাঠানটুলি ওয়ার্ডে নির্বাচনী সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। তার পরপরই গ্রেফতার করা হয়েছে পাঠানটুলি ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল কাদেরসহ ১১ জনকে।

বিদ্রোহীদের এই অনড় অবস্থানের কারণে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর ভোট সংগ্রহের ক্ষেত্রে দারুণ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।