নিউজটি শেয়ার করুন

চসিক নির্বাচনে আচরণবিধি ভাঙ্গলেন যেসব প্রার্থী, ৭ দিনে ১৮ অভিযোগ

শাহরুখ সায়েল: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বেড়েই চলছে আচরণবিধি লঙ্ঘন। বিগত ৭ দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে ১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। প্রার্থীদের গণসংযোগ থেকে পোস্টারিং কিংবা মাইকিং সব ক্ষেত্রেই আচরণ বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও এসব দেখার জন্য নগরীতে ৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তবে প্রার্থীদের দাবি তারা আচরণবিধি মেনেই গণসংযোগ চালাচ্ছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিমের পক্ষে ডা. শাহাদাত ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেড়া ও প্রচারণায় লিফলেট বিতরণে বাঁধা, মাইক ভাংচুরের অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে পৃথক দুইটি অভিযোগ দিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের।

ডা. শাহাদাত ১৮ নং ওয়ার্ডে পোস্টার ছেড়াঁ, গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ এনেছেন জনৈক ফারুক ও মানিক নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রাম নাগরিক ‌ঐক্য পরিষদ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে ২টি অভিযোগ এনেছেন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের।

এছাড়া ১১ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মোরশেদ আকতার এবং নুরুল ইসলাম হুমকি ও নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার দুইটি পৃথক অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: ইসমাইলের বিরুদ্ধে।

সংরক্ষিত ১৩ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী মনোয়ারা বেগম হামলা, ছিনতাই ও প্রান নাশের হুমকির অভিযোগ করেছেন তার তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে।

১৭ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে দলীয় প্রধানের ছবি সম্বলিত পোস্টার ছাপানোর অভিযোগ এনেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মো: সোয়েব খালেদ।

২৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোহা: মহসীন পোস্টার ছেড়া ও হামলার অভিযোগ এনেছেন অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

৬ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো: হাসান লিটন প্রচারণার সময় হ্যান্ড মাইক কেড়ে নেওয়া ও আতর্কিত হামলার অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে।

সংরক্ষিত ৭ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী আনজুমান আরা বেগম রাতের অন্ধকারে পোস্টার ছেড়ার অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রুমকি সেন গুপ্তের বিরুদ্ধে।

৫ নং মোহরা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: কাজী নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেড়াঁর অভিযোগ এনেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো: আজম।

১২ নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবের আহম্মেদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: নুরুল আমিন।

১৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে আতর্কিত হামলার অভিযোগ এনেছেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী চৌধুরী সায়েফুদ্দিন রাশেদ সিদ্দিকী।

সর্বশেষ অভিযোগটি এনেছেন ২৮ নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী গনসংযোগে গুলিবর্ষণ করে আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল হত্যার অভিযুক্ত মূল আসামি পুলিশের রিমান্ডে থাকা আবদুর কাদের।

তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে পোস্টার ছেড়াঁ, গনসংযোগে হামলা, প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।

উল্লেখ্য, ২৮ নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হযেছে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরও একজন। এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি- এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে সব প্রার্থী সমান, কাউন্সিলর কোন দলীয় নির্বাচন নয়, সব প্রার্থী এবং সকল ওয়ার্ড আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমরা বিষয়টি তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠাচ্ছি। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৮টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এরমধ্যে ৬টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।