নিউজটি শেয়ার করুন

চসিকের ১নং প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হতে ২ কোটি টাকার বাজেট!

২ ও ৩ নং প্যানেল মেয়রের জন্য উপঢৌকনের ছড়াছড়ি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ১ নম্বর প্যানেল মেয়র হওয়ার জন্য এক কাউন্সিলর ২ কোটি টাকা বাজেট করেছেন। এমন গুঞ্জন এখন সর্বত্র।এই কাউন্সিলর যে কোন মূল্যে প্যানেল মেয়রের পদ নিশ্চিত করার জন্য মোটা অঙ্কের বাজেট নিয়ে জোর লবিং চালাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

পাশাপাশি ২ নম্বর প্যানেল মেয়র এবং সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর থেকে ৩ নম্বর প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হওয়ার জন্য চলছে নানা তোড়জোড় ও দৌড়ঝাঁপ।

এবার প্যানেল মেয়রের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আলোচিত কাউন্সিলররা হচ্ছেন- ১০ নং ওয়ার্ডের নিছার উদ্দীন আহমেদ, ১৫ নং ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দীন, ১৬ নং ওয়ার্ডের সায়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, ২০ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী,  ২১ নং ওয়ার্ডে শৈবাল দাস সুমন, ২৫ নং ওয়ার্ডে আবদুস সবুর লিটন, ৩২ নং ওয়ার্ডে জহর লাল হাজারী। সংরক্ষিত আসনে ১ নং ওয়ার্ডের ফেরদৌস বেগম মুন্নি, ২ নং ওয়ার্ডের জোবাইরা নার্গিস, ৮ নং ওয়ার্ডের নীলু নাগ, ১২ নং ওয়ার্ডের আফরোজা কালাম।

সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের কাছে নানাভাবে তদবির করছেন। তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিভিন্ন উপঢৌকন। তার মধ্যে রয়েছে নামি-দামি ব্রান্ডের পাঞ্জাবি, শাড়িসহ আরো নানা কিছু। ৯ নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর জহিরুল আলম জসীম প্যানেল মেয়র পদে এক  প্রতিদ্বন্ধীর শাড়ী আর পান্জাবী ফেরত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিভিন্ন মহলের অভিমত- যতোই চেষ্টা তদবির চলুক, প্যানেল মেয়র কে হবেন সেটা নির্ভর করছে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের আশির্বাদের ভিত্তিতে।

বর্তমানে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে ১৮ জন সরাসরি আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বলে নাছির ব্লকের সিনিয়র নেতাদের দাবী। এর বাইরে আরও অনেকের সাথে রয়েছে গোপন যোগাযোগ। প্যানেল মেয়র নির্বাচনে তারাও এখন বড় ফ্যাক্টর।

জানা যায়, নিয়ম মতে নির্বাচিত পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সাধারণ সভায় দুজন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন সংরক্ষিত কাউন্সিলরের সমন্বয়ে  তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করা হবে। সাধারণ ও সংরক্ষিত ৫৪ জন কাউন্সিলরের মধ্য থেকে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করা হয়। মেয়রের অনুপস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে তারাই ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সাধারণ ওয়ার্ড থেকে দুজনের বেশি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড থেকে একজনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলে গোপন ব্যালটে তিনজনকে নির্বাচিত করা হবে। নির্বাচনে ভোট দিবেন ৪০টি সাধারণ ওয়ার্ড (একটি ওয়ার্ডের ভোট স্থগিত) ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচিত ৫৪ জন কাউন্সিলর।

অতীতে দেখা গেছে প্যানেল মেয়র হতে হাতেগোনা কয়েকজন কাউন্সিলর দৌড়ঝাঁপ করতেন। কিন্তু এবার প্যানেল মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  অতীতের চেয়ে বেশি সংখ্যক কাউন্সিলর দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা নির্বাচিত কাউন্সিলরদের কাছে নানাভাবে তদবির করছেন। ব্যক্তিগতভাবে, কয়েকজন মিলে, বিভিন্ন স্থানে বৈঠক করেন এবং রাজনৈতিকভাবে তদবির শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিকের ষষ্ঠ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৪০টি আওয়ামী লীগের সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থী, ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১২ জন দলীয়, একজন বিদ্রোহী ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হওয়ার কথা রয়েছে। শপথ গ্রহণের পর মেয়র ও কাউন্সিলররা ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে চসিকের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। এর পর অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ সভা। প্রথম সাধারণ সভাতেই নির্বাচিত হবে তিন সদস্যের প্যানেল মেয়র।

গত নির্বাচিত পরিষদে প্যানেল মেয়র ছিলেন কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, নিছার উদ্দিন আহমেদ ও জোবাইরা নার্গিস খান।

এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী বলেন, বিগত সময়ে প্যানেল মেয়রের দায়িত্বে ছিলাম। এবারও প্রতিদ্বন্ধীতা করবো। বিগত দিনের সার্বিক কর্মকান্ডের বিবেচনায় কাউন্সিলররা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।

উপঢৌকন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন উপলক্ষে অনেকে নানা উপহার দিয়ে থাকেন। আমিও সে সংস্কৃতি অনুযায়ী আমিওি উপহার দিয়ে থাকি এবং অনেকের কাছ থেকে পেয়েছি।

কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দীন বলেন, আমি ৫ বার নির্বাচিত। সে অভিজ্ঞতা প্যানেল মেয়র পদে কাজে লাগিয়ে নগরবাসীর সেবা করতে চাই।

কাউন্সিলর আবদুস সবুর লিটন বলেন, প্যানেল মেয়র পদে আমার প্রতিদ্বন্ধীতার বিষয়টি নির্ভর করছে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নির্দেশনার উপর।