নিউজটি শেয়ার করুন

ডিজিটাল সরকারের এনালগ কান্ড কেন?

চট্টগ্রাম সিটির মেয়র কাউন্সিলরদের শপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেয়রকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তা হবে ভার্চুয়ালি। ভার্চুয়ালিই যদি এই শপথ অনুষ্ঠান হয়, তাহলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে বসেই সেই আয়োজন করা হচ্ছে না কেন? মেয়র আর কাউন্সিলরদের ঢাকায় যাওয়ার দরকার কি? প্রায় হাজার খানেক নেতাকর্মী ইতিমধ্যে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন অনেকেই আবার যাত্রা শুরু করেছেন, এটারই বা কি দরকার ছিল করোনার এই সময়ে?

আসন্ন ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এই ধরণের প্রশ্ন করছেন অনেকেই।

নবনির্বাচিত মেয়রকে ভার্চুয়ালি গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। অন্যদিকে কাউন্সিলরদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম শপথ পাঠ করাবেন।

তবে করোনা মহামারির কারণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে ভার্চুয়ালিই যখন এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন তখন সেখানে শপথগ্রহনকারী মেয়র, কাউন্সিলরদের ঢাকায় যাওয়ার দরকার কি তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

কেননা ইতিমধ্যেই ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে ডাক-ঢোল পিঠিয়ে নানা আয়োজন শুরু করেছেন নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা। জানা গেছে তিনটি এসি চেয়ার কোচ জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকালেই। যার ব্যবস্থা করেছেন মেয়র নিজেই।  পাশাপাশি মেয়র, কাউন্সিলর ও তাদের নেতাকর্মীদের নিজস্ব গাড়িবহরতো থাকছেই। সবমিলিয়ে নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের পাশাপাশি তাদের হাজারেরো অধিক কর্মী ঢাকা যাবেন এই ভার্চুয়াল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। তোপখানা রোডস্থ এশিয়ান হোটেলে রাত্রি যাপন করবেন সবাই।

কি পরিমাণ খরচ হতে পারে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাউন্সিলর বলেন, সবার থাকা খাওয়াসহ এক একজন কাউন্সিলরের খরচ পড়বে কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকার উপরে।

এদিকে অনেকেই বলছেন যেহেতু ভার্চুয়ালী শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে তাহলে পুরো আয়োজনটাই চট্টগ্রামে করা যেত। এতে করে যেমন সামাজিক দুরত্ব পুরোপুরি নিশ্চিত হতো তেমনি খরচ বেঁচে যেত নবনির্বাচিত মেয়র কাউন্সিলরদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবনির্বাচিত কাউন্সিলর বলেন, অহেতুক আমাদের খরচটি বাড়িয়ে দিলো। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার চট্টগ্রামে এসেছেন। উনি একজন যদি চট্টগ্রামে আসতেন তাহলে কোটি টাকার অপচয় হতো না। এখন নেতাকর্মীদের আবদার রক্ষার্থে তাদেরকে ফেলেও যেতে পারছিনা। আমাদের অনেক কর্মীই অসন্তুষ্ট হচ্ছে।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ চট্টগ্রামের সভাপতি এডভোকেট আকতার কবির চৌধুরী সিপ্লাসকে বলেন, এক একজন কাউন্সিলরকেই যদি এক-দু দিনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয় তাহলে এটাতো তাদেরকে বরং দুর্নীতিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা আমি বলবো সরকারের দ্বৈত আচরণ।

তিনি বলেন, পুরো শপথ অনুষ্ঠানটি যদি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে হতো তাহলে শুধু অনেক গুলো টাকা কম খরচ হতো তা নয় বরং পুরো ব্যাপারটা অনেক বেশি সুন্দর লাগতো।

এই ব্যাপারে সিপ্লাসটিভির এডিটর ইন চীফ আলমগীর অপু বলেন, একজন অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক হিসেবে আমি চাইবো এই শপথ অনুষ্ঠান চট্টগ্রামেই হোক। বর্তমান সরকার ডিজিটাল সরকার হিসেবেই পরিচিত। বিশেষ করে এই করোনা কালীন সময়ে লেখাপড়া থেকে শুরু করে সবকিছুকেই ভার্চুয়ালি করার উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে সরকার। তাহলে এই বিষয়টিকেও কেন এর আওতায় আনা হবে না?

তিন আরো যোগ করেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন নির্বাচিত পৌর মেয়ররা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এসে শপথ গ্রহণ করছেন। তাহলে আমাদের সিটি মেয়র আর কাউন্সিলররা কেন ঢাকা যাবেন? আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ভার্চুয়ালি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন তাহলে চট্টগ্রামেই শপথ গ্রহণের কাজ সেরে ফেলা যেতো।