নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ের লাল বিল্ডিংয়ে লাল পানি!

নানা অব্যবস্থাপনায় রেলওয়ে হাসপাতাল

মো: মহিন উদ্দীন: নানা অব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতাল। তার মধ্যে অন্যতম হল চিকিৎসক এবং তীব্র পানি সংকট। হাসপাতালে শুধু বিশুদ্ধ পানির সংকট নয়-বেশিরভাগ সময় টয়লেটে যাওয়ার পানিও থাকে না। এতে পুরো পরিবেশটা নোংরা হয়ে থাকে। এনিয়ে বার বার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আর মন্ত্রাণালয়ে চিঠি দেয়ার কথাও জানালেন প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও)।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিআরবি, টাইগারপাস, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন, গোয়ালপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় পানির সংকটে প্রায় ১২ হাজার স্টাফ। যে পরিমাণ সরবরাহ রয়েছে তাও বিষাক্ত যুক্ত।

এ হাসপাতালে কাগজে কলমে ৩৫৪টি পদের বিপরীতে ২৯৫ জন কর্মরত থাকলেও বাস্তবে উপস্থিত থাকে অর্ধেক। বাকি অর্ধেক অদৃশ্য কারণে অকারণে অনুপস্থিত থাকে কর্মস্থলে। তার মধ্যে কেউ ছুটিতে আবার কেউ অসুস্থ।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় নগরীর সিআরবি এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালটি ঘুরে কোন রোগী চোখে পড়েনি। তবে ফার্মেসীতে কয়েকজনকে ওষুধ নিতে দেখা যায়। এরপর কথা হয় ইসিজি এবং প্যাথলজী বিভাগের কয়েকজনের সাথে। তখন ময়লা ও আর্বজনা আর মাকড়সার জ্বালে ঢেকে থাকা একটি রুম পরিষ্কার করছেন একজন ল্যাব এন্টেডেন্ট ও হাসপাতাল ক্লিনার।

তারপর তৃতীয় তলায় বক্ষব্যাধি হাসপাতালে উঠলে একটি রুমে কথা বলছেন ২/৩ জন লোক। তাদের মধ্যে একজনের গায়ে নার্সের পোষাক থাকায় জানতে চাইলে তিনি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের মেট্টোন সুচি বলে জানান। তারপর কথা হয় ওনার সাথে, জানতে চাইলাম কতজন জুনিয়র নার্স আছেন? উত্তরে তিনি জানালেন জুনিয়র নার্স নামে কোন নিয়োগ নেই। বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রমোশন দিয়ে জুনিয়র নার্স করা হয়।

তবে ৬/৭ জন জুনিয়র নার্স আছেন এবং ভর্তিকৃত মাত্র ৩ জন রোগী আছেন। এসময় শিফটিং করা তালিকা আর কে কে ডিউটিতে আছেন তা দেখতে চাইলে তিনি ডিএমও স্যারের নির্দেশ ছাড়া দেখানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এরপর দেখি ধীরে ধীরে জমায়েত হয়ে গেল ৮/৯ জন। তাদের চেহেরা দেখে মনে হচ্ছে কোথাও দৌড়াদৌড়ি দিয়ে আসছে। তখন প্রতিবেদক কৌতুহলবশত তাদের কাছে কি করে জানতে চাইলে কেউ ষ্টুয়ার্ড আর কেউ আয়া,বাবুচি,মশালচী,এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ আরও কয়েকটি পদের কর্মচারীদের।

এমন সময় এক একজন অন্যান্য কাজে ব্যস্থ থাকার কারণে অফিসে উপস্থিত থাকে না। সবার সাথে কথা শেষে নার্স রুম এবং রোগীদের বেডে গিয়ে কোন রোগী না দেখলেও কিন্তু বেডের অবস্থা দেখে মনে হল রোগী থাকা দুরের কথা কোন মানুষও থাকবে না। এরপর রান্নাঘরে গেলে দেখা যায় বোরকা পরা দুই মহিলা বসে আছে। মনে হচ্ছে তারা কোথাও বেড়াতে যাবেন। কয়বছর আগে চুলায় রান্না করছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী সিপ্লাসকে জানান, এখন চিকিৎসক ও রোগী না থাকায় যে যার মত করে অফিসে আসে।’ আবার আসলে কোন মতে হাজিরা দিয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত কাজ সারেন। এ সুবাধে কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা একদিন আসলে আর ৪/৫দিন আসে না। আসলেও কি হবে। বসে বসে ঘুমানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই।

চট্টগ্রামের রেলের সরকারি বাসা, অফিস বিভিন্ন স্থাপনায় লবণাক্ত ও বিষাক্ত পানি ব্যবহার করছেন ভুক্তভোগী বসবাসকারীরা। এসব পানি থেকে বিভিন্ন ধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

রেলওয়ে হাসপাতালের সব কর্মকর্তা কর্মচারীরা বলেন, স্টাফ পানি সমস্যায় ভূগছি। বাইরে থেকে পানি কিনে অনেকেই কাজ শেষ করছেন। পানির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রেলে বসবাসকারীদের সমস্যায় রয়েছে। রয়েছে রেলের হাসপাতালেও পানি সংকট। তবে কবে নাগাত এ সমাধান হবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন সকলের মাঝে।

ডিএমও ডা: চিন্ময় সিপ্লাসকে বলেন, জোড়াতালি দিয়ে চলছে হাসপাতাল। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ খালী রয়েছে। কোন কাগজপত্র দেখাতে হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। রোগী থাকুক কিংবা না থাকুক প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারীকে অবশ্যই সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হবে। তারমধ্যে শিফটিং ডিউটি যাদের আছে তাদেরকে একইভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে পানি আর চিকিৎসক নিয়ে লেখার জন্য বলছি।

পুর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ডা: ইবনে সফি আব্দুল আহাদ সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হল ডাক্তার আর নার্স,অবকাঠামোগত এবং পানি। আয়রণ যুক্ত পানি আর লাল পানি ছাড়া কিভাবে ব্যবহার করি। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন আর প্রকৌশল বিভাগসহ মন্ত্রণালয়ে অনেকবার চিটি দিয়েছি এসব সমস্যা সমাধান করার জন্য। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তবে প্রশাসনিকভাবে হাজিরা খাতা দেখতে হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। এটা বলতে পারি এখানে কেউ অনুপস্থিত থাকে না এবং কর্মরত থেকেও অফিস করে না এমন কেউ নাই। যারা অনুপস্থিত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্ব) চট্টগ্রাম প্রধান প্রকৌশলী মো: সুবক্তগীন সিপ্লাসকে বলেন, আমি এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।