নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম রেলওয়ের দুই হাসপাতালের ভরসা মাত্র দুই চিকিৎসক

মো: মহিন উদ্দীন: বেহালদশায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা। একসময় এখানে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ও পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকলেও বর্তমানে তেমন রোগী নেই।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১৯টি। তারমধ্যে শুন্য পদের সংখ্যা ১৪টি।

বর্তমানে ৫ জন চিকিৎসক কর্মরত। তাঁদের একজন মাতৃকালীন ছুটিতে। আরেকজন লাকসামে অতিরিক্ত দায়িত্বে। আরেকজন চিকিৎসক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চট্টগ্রামের সিআরবি ও পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতাল।

জোড়াতালি দিয়ে চলতে হচ্ছে চট্টগ্রামের রেলওয়ে হাসপাতাল। ১৫টি নার্স পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৪ জন। বাকী ১১টি পদ শূন্য। এছাড়াও বিভিন্ন পোস্টে আরও শতাধিক পদ খালী রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা ৪০মিনিটের সময় নগরীর সিআরবি এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে হাসপাতালটি ঘুরে কোন রোগী চোখে পড়েনি। তবে অনেককে বসে বসে গল্পগুজব করতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় একজন কন্যা শিশুকে খেলনার গাড়ী চালাতে দেখা যায়। এরপর খোলা একটি রুমে রোগীদের বসার প্লাস্টিকের চেয়ারে একজন মহিলা বসে মোবাইল নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। কাছে গিয়ে রোগী কিনা জানতে চাইলে তিনি উক্ত হাসপাতালের থেরাপি অ্যাসিস্ট্যান্ট শোকতারা বলে জানান।

তিনি বলেন, কোন রোগী নেই তাই স্যার অফিস থেকে বের হয়ে বাইরে গেছে তার জন্য বসে আছি।

এরপর কয়েকজন কর্মচারী জানান শুধু ডাক্তারের সমস্যা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী সিপ্লাসকে জানান, একসময় এখানে রোগীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তখন পর্যাপ্ত চিকিৎসকও ছিলেন। এখন পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় এখানে রোগী কমছে বলে আমাদের ধারণা। এ সুবাদে কিছু কর্মচারী ও কর্মকর্তারা একদিন আসলে আর ৪/৫দিন আসে না। আসলেও কি হবে। বসে বসে ঘুমানো ছাড়া আর কোন কাজ নেই।

পুর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (চীফ মেডিকেল অফিসার) ডা: ইবনে সফি আব্দুল আহাদ সিপ্লাসকে বলেন, চিকিৎসক ও জনবলের অভাব, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকাসহ নানা কারণে রোগীরা দিন দিন এসব হাসপাতালের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। শুধু এই হাসপাতাল নয়, রেলওয়ের অন্যান্য হাসপাতালেও রোগী কমে গেছে। তবে ডেপুটেশনে হলেও ১০ জন চিকিৎসককে চাওয়া হয়েছে রেলওয়ে হাসপাতালের জন্য। কেননা খুব নাজুক অবস্থায় আছি। কোন মতে জোড়াতালি দিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এখানে নানা কারণে ডাক্তাররা থাকতে চান না। কারণ পদায়ন হলেও বাড়ে না বেতন। যেমন আমারটা বলি, আমি এখন সিএমও পোস্টে আছি কিন্তু এ পোস্টের বেতন পাচ্ছি না। পাচ্ছি আরও নিচের দুই পোস্টের পরের বেতনটা। তবে এ সব বিষয় নিয়ে আমরা উর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে চিটির মাধ্যেমে অবহিত করেছি।