নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বার বার বাড়ছে কিডনীর ডায়ালাইসিস ফি, চরম বিপাকে রোগীরা

মো: মহিন উদ্দীন: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারে বার বার ফি বাড়ানোর অভিযোগ রোগীদের।এতে করে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে হতদরিদ্র রোগীদের।

জানা যায়, ডিজি হেলথ এর সাথে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ প্রজেক্টের আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর ১০ বছরের চুক্তি হয়। যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ রয়েছে বলে দাবী স্যান্ডর কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিনই ৯০ থেকে ৯৫ জন রোগী আসেন সেবা নিতে।

রাঙ্গুনীয়া থেকে আসা মো: ইলিয়াছ সিপ্লাসকে বলেন, যত বারই কিডনীর ডায়ালাইসিস পরীক্ষা দিতে আসি তত বারই ফি বেশি নেন। আমার মত গরীব মানুষের জন্য এতটাকা দিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। তারপরও যতদিন বাঁচি ততদিন তো কষ্ট করেও হলে এ চিকিৎসা করতে হবে। প্রথমে আমার কাছে থেকে নিয়েছে ২৫৩৪ টাকা আর আজ সোমবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি) আবারও ফি নিল ২৬৬৩টাকা।

মিরসরাই উপজেলার জোররারগঞ্জ থেকে আসা প্রফুল্ল কুমার নাথ বলেন, ২১ বছর ধরে কিডনীর ডায়ালাইসিস করছেন। প্রায় ৭০কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টারে আসি। আমার দুই মেয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করে। তাদের বেতনের টাকায় দিয়ে কিডনী ডায়ালাইসিস হলেও এবার আর হচ্ছে না। হঠাৎ করে ডায়ালাইসিস ফি ৫গুন বাড়িয়ে দেয়ায় আমার মত গরিব লোকের পক্ষে মোটেও সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টার স্যান্ডর এর ইনভেনটরী অফিসার মো: তাইফ রহমান সিপ্লাসকে বলেন, কিডনীর ডায়ালাইসিস ফি বার বার বৃদ্ধি রোগীদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ প্রজেক্টের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। সরাসরি ডিজি হেলথ স্যারের তত্ত্বাবধানে চুক্তিভিত্তিক পরিচালিত হয়। চুক্তি মোতাবেক ঢাকা ও চট্টগ্রামে মিলে যে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সেশন ফি প্রদানে দায়বদ্ধ থাকে।

২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের অর্থবছর পর্যন্ত কোটা অনুযায়ী সেশন ফি প্রদানে অনুমোদন ছিল। কোটা শেষ হয়ে যাওয়া ২০১৯ থেকে ২০২০ এবং ২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কোন কোটা অনুমোদন না দেয়ায় বর্তমানে একটা সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব কোটা খুব শীঘ্রই অনুমোদন হয়ে যাবে।

ঢাকা ডায়ালাইসিস সেন্টার স্যান্ডর এর ম্যানেজার নাজমুল হাসান সিপ্লাসকে বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ প্রজেক্টের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান হল স্যান্ডর। এ প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে ২০১৭ সালে ১০ বছরের চুক্তিতে আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে। প্রথম থেকে কিডনীর ডায়ালাইসিস পরীক্ষার ফি ছিল ২১৯০ টাকা। তবে এরমধ্যে সরকারকে দিতে হয় ৪৮৬ টাকা। আবার এই ২১৯০ টাকার মধ্যে প্রতিবছর ৫% যোগ করতে হয়। যা ২০২১ সালে এসে ২৬৬৩টাকায় দাড়ায় তা নিচ্ছি।

এর থেকে বেশি নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সরকারের কোটা ফি অনুমোদন না থাকার সত্ত্বেও স্যান্ডর ডায়ালাইসিস কিভাবে বাড়তি ফি নিচ্ছে তা নিয়ে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে সচেতন মহলে।

এবিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আবদুল মান্নান সিপ্লাসকে বলেন, আমি এ বিষয়ে পরিচালকের সাথে কথা বলে দেখব।