নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার থেকে পড়ে জবি ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু; হত্যা মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করতে আদালতের আদেশ

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার থেকে পড়ে জবি ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

মোঃ নেজাম উদ্দীন,আদালত প্রতিবেদক:  চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আকবর হোসাইনের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর ঘটনায় রুজু হওয়া অভিযোগ ফের হত্যা মামলা হিসাবে ধারা সংযোজন করত: হত্যা মামলা হিসাবে নথিভুক্ত এবং সুষ্ঠ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলশি থানার আদালত সেরেস্তাদার এএসআই শাহীন ভূইয়া।

মামলার তদন্তকারী অফিসার এএসআই মফিজুর রহমার (নিরস্ত্র)কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সংযোজন আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৩০২/৩৪ ধারা সংযোজন করে হত্যা মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করত: তদন্তের আদেশ দেন। তৎপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি, আশা করি খুব শীগ্রই উক্ত ঘটনার মুল রহস্য উৎঘাটন হবে।

অন্যদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, যেহেতু আমাদের ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক, এই ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত তা উৎঘাটন করা আবশ্যক, এ ব্যাপারে আমরা খুলশি থানার পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছি, পুলিশের পক্ষ থেকে আসল ঘটনা উৎঘাটন করবেন বলে আশা দিয়েছেন, আমরা আশা করছি পুলিশ সুষ্ঠ তদন্ত চালিয়ে যাবেন এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে ন্যায় বিচার নিশ্চিতে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

মামলার বাদী ও নিহতের বাবা মো: আউয়াল খান ও তার পরিবারের সাথে সিপ্লাসের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নাই।

আদালত সুত্রে জানা যায়, এই ব্যাপারে গত ৩০ আগস্ট খুলশি থানায় ৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৪ ধারা উল্লেখ করে মামলা রুজু হয়। পরে আকবর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করলে পরে গত ২ সেপ্টেম্বর উক্ত মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা হিসাবে সংযোজনে আবেদন করলে আদালত ৩০২/৩৪ ধারা সংযোজন করত: ৫ সেপ্টেম্বর হত্যা মামলা হিসাবে নথিভুক্ত করতে এবং থানা কর্তৃপক্ষকে তদন্তের নির্দেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট।

প্রসঙ্গত: গত ২৮ আগস্ট জিইসি মোড় এলাকায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফ্লাইওভার থেকে নিচে পড়ে থাকা আকবরকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। এরপর গত বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার ধুনট ইউনিয়নে তার নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার লাশ দাফন করা হয়।

আকবর হোসাইন (২৫) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আকবরের পৈতৃক নিবাস ঢাকার ধামরাই উপজেলার ধুনট ইউনিয়নে।

আরও জানা যায়, আকবরের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজার জেলায় ব্যবসার সুবাদে বসবাস করছেন। তবে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে পুরান ঢাকার কলতাবাজারের একটি মেস বাসায় থাকতেন।

আকবরের সহপাঠীরা সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের সহপাঠীর সঙ্গে খুব অন্যায় করা হয়েছে। আমাদের ধারণা তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা একজন সহপাঠীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠূ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। সহপাঠী হত্যার দ্রুততম সময়ে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত না হলে অনতিবিলম্বে আমরা মানববন্ধনসহ প্রয়োজনে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments