নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে প্রতারণার দায়ে ভুক্তভোগিদের আদালতে মামলা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগিরা।

মামলার আসামীরা হলেন, মো: নুরুল আলম(৪৫), এয়ার মাহমুদ(৪২), সোলায়মান(৫৫) এবং কাজী মো: নোমান প্রকাশ বাচ্চু(৪২)।

চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে তারেক আজাদ, শামসুল আলম, সৈয়দুল হক এবং মোহছেনা বেগম নামে ভুক্তভোগিরা।

এছাড়াও এসব প্রতারক চক্রের কাছে স্বর্বসহারানো অনেকেই ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,উপজেলা চেয়ারম্যান,হাটহাজারী মডেল থানার ওসি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাটহাজারী সার্কেল,হাটহাজারী কোম্পানি কমান্ডার র‌্যাব ৭,চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে পৃথক পৃথক লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন সুরেহা না পাওয়ার অভিযোগ তাদের। মামলা সমুহ হল, ১৭১,৪৪,৪৬।

মামলা সুত্রে জানা যায়, হাটহাজারী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের মীরেরখীল এলাকার মীর বাড়ীর আলহাজ্ব ফরিদুল আজাদের পুত্র তারেক আজাদ (৩০) ব্যবসায়ীক কাজের জন্য নিজেদের ফটিকা মোজার ৩১ শতক নাল জমি বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে তখন এয়ার মাহমুদ ও নুরুল আলম উক্ত জমি কিনতে বিগত ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর তারিখে এয়ার মাহমুদের নামে পাওয়ার অব অ্যার্টনী নেন। এরপর এয়ার মাহমুদ তার নামীয় ব্র্যাক ব্যাংক অনলাইন শাখার সিএলএ নং ১০৫১৯৫৩ এর কিসমত মেটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের হিসাব নং ১১১০২০৩৪৯৬৫৪৮০০ হতে একুশ লাখ ত্রিশ হাজার টাকার একটি চেক প্রদান করে।

এ চেকটি নিয়ে বাদী তারেক আজাদ ব্যাংকে যায় টাকা উত্তোলন করতে। কিন্তু ব্যাংক উক্ত চেকে যথাযথ স্থানে স্বাক্ষর করেনি বলে জানান। তারপর ব্যাংক চেকটি ফেরত দেয় বাদীকে। এমন অবস্থায় বাদী উক্ত চেকটি নিয়ে প্রতারক এয়ার মাহমুদের কাছে যায়।

এ সময় প্রতারক এয়ার মাহমুদ ও নুরুল আলম বাদীকে জমির পাওয়ার অব অ্যার্টনী বাতিল করার পরামর্শ দিয়ে প্রলোভন ও বিশ্বাস স্থাপন করে প্রতারক নুরুল আলম বাদীকে গ্যারান্টি হিসেবে ২টি চেক নেন। এ প্রলোভনে পড়ে বাদী তারেক আজাদ নিজের ব্যাংক হিসাব পূবালী ব্যাংক হাটহাজারী শাখা থেকে চেক নং এএস১০০-এ-৩১৭২৫১৬ হতে ২ লাখ টাকা এবং অপর চেক নং এএস১০০-এ- ৩১৭২৫১৫ হতে ৩ লাখ টাকার ২টি চেক নেন প্রতারক চক্ররা। এসব কাজের মধ্যস্থতা করেন সোলায়মান(৫৫) এবং কাজী মো: নোমান প্রকাশ বাচ্চু(৪২) নামের দুই ব্যক্তি।

এরপর বাদী তারেক আজাদ আসামী এয়ার মাহমুদ এবং নুরুল আলমের সাথে বার বার যোগাযোগ করলে অভিযুক্তরা বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এমন অবস্থায় বাদী তার জমির দেয়া পাওয়ার অব অ্যার্টনী বাতিল করার জন্য আসামীদেও আইনি নোটিশ প্রদান করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন হুমকি ধুমকি প্রদান করে।

এঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানায় বার বার অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আসতে বিলম্ব হয় বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়।

একই ঘটনার শিকার হয়ে আরেক ভুক্তভোগী মোহছেনা বেগম নামে এক মহিলা উক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলা সুত্রে জানা যায়, বাদীনির নিকট থেকে এলাকার কবিরাজ সালাউদ্দিন টিপু নিজের ঘর নির্মাণ করার জন্য টাকা ধার চাইলে বাদীনির নিকট নগদ টাকা নেই জানালে প্রতারক টিপু স্বর্ণালংকার বন্ধক দিয়েও হলে এক মাসের জন্য টাকা দেয়।

এসময় প্রতারক টিপু বাদীনিকে প্রলোভন দেখায়। তখন বাদীনি তার নিজের গায়ের গহনা সমুহ উপজেলার চৌধুরী হাটস্থ বিএম জুয়েলারি দোকানে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে টিপুকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

এরপর মাস যায়, বছর যায় তারপরও সে টাকা দেয়ার কোন খবর নেই। তারপর প্রতারক টিপু আজ না হয় কাল দেবে। এমন করে সে আমাকে ঘুরাতে থাকে।

এমন ঘুরানোর খবর পেয়ে একদিন বাদীনির ঘরে যায় আরেক প্রতারক নুরুল আলম। সে বাদীনির বাড়িতে গিয়ে উক্ত টাকা উদ্ধার করে দেবে বলে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে আবার নগদে ২০ হাজার টাকা নেন। এরপর উক্ত চক্রের মুলহোতা নুরুল আলম বাদীনিকে সালাউদ্দিন টিপুর সাথে তাকে স্বাক্ষাৎ করে দেন এবং পাওনা টাকা সমুহ তাকে দেয়ার জন্য বাদীনিকে বলতে বলে। তারপর যে যার মত করে বাড়িতে চলে যায়।

এবার প্রতারক নামে পরিচিত নুরুল আলম কথিত কবিরাজ সালাউদ্দিন টিপুর কাছ থেকে সব টাকা নিয়ে যায় কিন্তু সে কোন টাকা বাদীনিকে দেয়নি। এরপর বাদীনি টাকার জন্য নুরুল আলমের কাছে গেলে সে টাকা না নেয়ার কথা জানায়। বাদীনি নিরুপায় হয়ে তার থেকে ধার নেওয়া টিপুর কাছে গেলে সে জানায় সব টাকা নুরুল আলম নিয়ে গেছে।

এমন অবস্থায় বাদীনি নিরুপায় হয়ে গত ১৭ জানুয়ারী’ তারিখে চট্টগ্রাম থেকে বিজ্ঞ আদালতের কৌশলী মারফত আইনি নোটিশ প্রদান করলে আসামীদ্বয় বাদীনিকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধুমকি দেয়।

তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চৌধুরীহাটে দুই প্রতারককে দেখলে তখন আমার টাকার কথা বলার আগেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীনিকে মারধর শুরু করে।

এঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিরুপায় হয়ে মডেল থানায় গেলে তারা আদালতে যেতে বলে। তারপর বাদীনি আদালতে গিয়ে সিআর মামলা ১৭১ দায়ের করে।

একই ঘটনায় প্রতারক নুরুল আলমের ফাঁদে পড়ে ৫ লাখ টাকা হারিয়ে উল্টা হয়রানির শিকার হয়ে মামলা দায়ের করেন শামসুল আলম নামে এক ব্যবসায়ী ও প্রবাসী সৈয়দুল হক নামে ভুক্তভোগীরা।