নিউজটি শেয়ার করুন

খুলেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নগরীর বিনোদন কেন্দ্রে ক্লাস সময়ে ইউনিফর্ম পরে ঘুরছে শিক্ষার্থীরা

নগরীর বিনোদন কেন্দ্রে ক্লাস সময়ে ইউনিফর্ম পরে ঘুরছে শিক্ষার্থীরা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনার কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধের পরে খুলেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ সুযোগে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পার্কে আড্ডা দিয়েই সময় পার করছে। শ্রেণি কার্যক্রম কিংবা ক্লাস চলাকালিন সময়ে তারা ঘনিষ্ট হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নজর নেই অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের।

নগরীর বিনোদন কেন্দ্রে ক্লাস সময়ে ইউনিফর্ম পরে ঘুরছে শিক্ষার্থীরা
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বিনোদন কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা বারটার দিকে নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর অনেকেই স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে বন্ধুবান্ধব, ‘প্রেমিক-প্রেমিকা’ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ সময় স্কুল-কলেজের পোশাক পরেই ছেলেমেয়েরা সিআরবি, জাম্বুরী পার্ক, জাদুঘর, ডিসি হিল, আগ্রাবাদ শিশু পার্ক, ফয়েস লেক, বিপ্লব উদ্যানের মতো স্থানে ঘোরাঘুরি করছে। আবার অনেক পার্কে স্কুল পোশাক পরে প্রবেশ নিষেধ থাকায়, তারা বাসা থেকে ব্যাগে আলাদা পোশাক নিয়ে বের হয়। সুযোগ-সুবিধামতো পোশাক পাল্টে নেয়। ছেলেরা টি-শার্ট পরে নেয়। মেয়েদের অনেকেই আবার স্কুল পোশাকের ওপর বোরকা পরে। এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ কিছুই করতে পারছে না। আবার দেখা যাচ্ছে অনেকে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পোশাক পরেই পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সিআরবিতে ঘুরতে যাওয়া দশম শ্রেণির কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী সিপ্লাসকে বলেন, অনেক দিন হয়েছে বের হতে পারেনি। যদিও বের হতে চাইলে মা বাবার জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই তেমন বের হওয়া যায়নি। এখন স্কুল খুলেছে, মা বাবাকে ক্লাস আছে বলেই বের হয়েছি। ২৪ ঘন্টা তো আর পড়ালেখা করা যায় না। একটু আনন্দ বিনোদনের প্রয়োজন। তাই বাসায় মিথ্যা বলেই বের হয়েছি। দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি করব না। দুপুর দুইটার আগেই বাসায় চলে যাব।

স্কুল চলার সময় ছাত্রছাত্রীরা যেন বাইরে ঘোরাঘুরি না করে সেজন্য প্রশাসনের দায়িত্বের সঙ্গে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচিত অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা। পরিবার থেকেই শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে নৈতিক ও অনৈতিক শিক্ষা দেওয়া দরকার। পরিবার থেকেই সন্তানকে সুসন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ শিক্ষিত মহল।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, যারা চাকরি করে না তারা কেবল তাদের সন্তানদের ভালভাবে দেখাশুনা করতে পারে। তবে অনেক সন্তানের পিতা, মাতা দুইজনই চাকরি করে। তাই শিক্ষকদেরও বেশি দায়িত্ব থাকা দরকার।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও সব্যসাচী লেখক অধ্যাপক মির্জা মো: শহীদুল্লাহ সিপ্লাসকে বলেন, আমি অনেক অভিভাবকে দেখেছি প্রতিদিনই তার সন্তানকে স্কুলে এনে দেয়। আবার ছুটির আগেই এসে দাড়িয়ে থাকে। সন্তান বের হলেই তাকে আবার বাসায় নিয়ে যায়। এভাবে প্রত্যেক মা বাবাই যদি সচেতন হয়। তাহলেই সন্তানরা বিপদগামী হতে পারবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই যে পরিমাণে শিক্ষার্থী আছে, এতে সবার খোঁজখবর নেওয়া সম্ভব নয়।

সিআরবি পুলিশ ফাড়ির বিটের কয়েকজন পুলিশ সদস্য সিপ্লাসকে বলেন, করোনার সময় সিআরবিতে তেমন শিক্ষার্থীদের দেখা যায়নি। এ সময়ে বিকেল বেলায় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ঘুরতে আসতো। এখন স্কুল-কলেজ খুলেছে তাই ইউনিফর্ম পরে কিছু শিক্ষার্থী ঘোরাফেরা করছে। তবে লকডাউনের আগে আমরা অনেক ছেলে মেয়েকে স্কুল-কলেজের পোশাক পরে ঘোরাঘুরি করার সময় আটক করে মা বাবার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছি। কে শুনে কার কথা। ভাল করতে গেলেই উল্টা পুলিশের বদনাম। প্রশাসনের চেয়ে মা বাবা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরাই চাইলে সেটা দমন করা কোন ব্যাপার না। তবে সবচেয়ে মা বাবারাই বেশি দায়ী। কারণ তাদের সন্তান কোথায় যায়, কি করে? স্কুল-কলেজে যাচ্ছে কি না তা শিক্ষকের কাছ থেকে জানতে পারে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments