নিউজটি শেয়ার করুন

খুটাখালী পাহাড়ী এলাকার আতংকের নাম নুরু, চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব!

খুটাখালী পাহাড়ী এলাকার আতংকের নাম নুরু

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের পাহাড়ী বাসিন্দাদের আতংকের নাম নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু ডাকাত। যার নাম শুনলেই পাহাড়ী গ্রামের বাসিন্দারা ভয়ে তটস্থ থাকে। প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে এলাকায় নুরু ডাকাতের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।

বিগত ক’বছর ধরে ইউনিয়নের বিশাল পাহাড়ী এলাকা কোনাপাড়ায় আস্তানা গড়ে তোলে নুরু ডাকাত বন বিভাগের জমি ও ছড়া থেকে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন,পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতি, পাহাড়ে বসবাসকারী স্থানীয়দের নির্যাতন, বন বিভাগের গাছ চুরি, রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পসহ এমন কোন অপকর্ম নাই যা সংগঠিত করছেনা।

এসবের পরও বহু অপকর্মের সর্দার, দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, একাধিক মামলার পরোয়ানাভূক্ত আসামী নুরু এখনো অধরা রয়ে গেছে! তাকে রহস্যজনক কারণে গ্রেফতার করছেনা পুলিশ।

জানা গেছে, উপজেলার খুটাখালী ইউপির কোনাপাড়া এলাকার মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রকাশ নুরু ডাকাত নারী নির্যাতন, হত্যা, ডাকাতি ও বন মামলাসহ অর্ধডজনের অধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাহাড় বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন অপরাধ কর্ম পরিচালিত করলেও ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায় এ স্বীকৃত অপরাধী। খুটাখালী ইউপির পাগলীরবিল তথা কোনাপাড়ার অসহায় লোকজন তার অত্যাচার- নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে ওঠলেও ভয়ে মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পায়না। সচেতন মহলও নিরবে সহ্য করে যায় তার নির্মম অত্যাচার আর নির্যাতন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাকাত নুরু’র নেতৃত্বে শাহজালাল ও শাহেদকে নিয়ে পাহাড়ে গড়ে ওঠেছে একটি বাহিনী। তার বাহিনীর সাথে জড়িত রয়েছে খুটাখালী-ডুলাহাজারার বেশ কজন স্বীকৃত অপরাধী। তাদের কাজ হল পাহাড়ে বসবাসকারী নিরহ লোকদের দিয়ে প্রথমে বসতভিটা দখল করে পরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে বিক্রি করবে। নয়তো উচ্ছেদ করার হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা। এ সমস্ত অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিনিয়ত ঘটালেও তার ভয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ পর্যন্ত দিতে পারেনা ভুক্তভোগীরা।

যার কারণে বেপরোয়া হয়ে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালিত করতে কোন ধরণের বাধার মধ্যে পড়তে হয়না। এছাড়াও বনবিভাগের জমি জবর দখল করে মেশিন বসিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাহাড় কেটে নিধন করার মত অহরহ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মুলতঃ ডাকাত ইনুর সহযোগী নুরু ডুলাহাজার সাফারি পার্কের কিছু অংশ নিয়ে খুটাখালীর পাহাড়ে অপরাধ কর্মে নেতৃত্ব দেয়ায় পুরো পাহাড়ের অধিবাসীরা তার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কোনাপাড়া,বুইজ্জ্যারঝিরি,টানাব্রীজসহ পুরো পাহাড়ের নেতৃত্ব নিয়ে নেয়। শুরু করেন নানা অপরাধ কর্ম। কেউ তার অপরাধ কর্মের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মামলা হামলার হুমকিও প্রদান করেন।

স্থানীয় বেশ ক’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নুরু ডাকাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা খুব ভয়ংকর। কিছুদিন পরপর পাহাড়ে এসে বসতভিটা থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে থাকেন। তার এ বেপরোয়া আচরণে অসহায় অবস্থায় জীবন যাপন করতে হয়। প্রশাসনের প্রতি স্থানীয়দের দাবী তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে পাহাড়ী জনপদ কোনাপাড়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হউক।

অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাত নুরুর নেতৃত্বে খুটাখালী বনবিটের সংরক্ষিত বন ভূমিতে চলছে জবর দখলের মহোৎসব। তৈরী হচ্ছে নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা। ভিলিজার নামধরী নুরু এসব বনভূমি প্রতিনিয়তই প্লট আকারে বেচা-বিক্রি করছে। বিগত কমাসে বনের ভিতর গড়ে উঠছে শত শত অবৈধ স্থাপনা।

অভিযোগে আরো জানা যায়, কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার ফুলছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী-মেদাকচ্ছপিয়া বন বিটের আওতাধীন বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জায়গায় সাম্প্রতিককালে ডাকাত নুরুর নেতৃত্বে বসতি নিার্মণের হিড়িক পড়েছে। নুরু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছে বন বিভাগের সংরক্ষিত জায়গা বেচা-বিক্রি করে সরকারী জায়গা দেদারসে বেহাত করে দিচ্ছে।

গত কদিন ধরে ফুলছড়ি রেঞ্জের বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকা সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারী বনভূমি থেকে বালি পাচার ও কোনাপাড়ায় প্রতিনিয়ত তৈরী করা হচ্ছে কাঁচাঘর বাড়ি। এর ফলে নিধন হচ্ছে বৃক্ষ, উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চল। ডাকাত নুরুর আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থাকা একাধিক সিন্ডিকেট বনভূমির জায়গা বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। গত ১ বছরে এই দুই বনবিটের অন্তত একশ একর সংরক্ষিত বনভূমির জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে।

অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম নুরু’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পুর্ন মিথ্যা ও প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন।

এ ব্যাপারে সহকারী বন সংরক্ষক ফুলছড়ি (এসিএফ) দীপেন চন্দ্র দাশ’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সবেমাত্র যোগদান করেছি। তবুও সংরক্ষিত বনভূমির অবৈধ জবর দখল ঠেকাতে তিনি ও তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক সজাগ রয়েছেন বলে জানান।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মু. জুবায়ের বলেন, তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments