নিউজটি শেয়ার করুন

খুটাখালীতে লবণ মাঠ চিংড়ি জমি দখল, আতঙ্কে ১১৪টি পরিবার!

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার ছড়াঘোনা ও মাষ্টারঘোনা এলাকায় ১১৪ পরিবারের মালিকানাধীন ১৮২ একর লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় চরম আতংক বিরাজ করছে।

দুর্বৃত্তরা ওই ঘটনায় ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে খামারঘর ভাংচুর এবং ঘেরের বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মালিকপক্ষ।

হামলা ও লুটপাটের এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ্য ছাড়াও আরো ১৫-২০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি এজাহার দিয়েছেন জমি মালিকপক্ষের অংশিদার ১১৪ পরিবারের প্রতিনিধি জাকেরা বেগম (৪৫)।

অপরদিকে একই ঘটনায় চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৮/২১। এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন বাঁশখালী পুইছড়ি এলাকার সুলতান গণি প্রকাশ লেদু মিয়া, মোহাম্মদ লেদু, চকরিয়া পৌরসভার দক্ষিন কাহারিয়াঘোনার জমির উদ্দিন, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা জালাল উদ্দিন, ছরওয়ার আলম, মো.ছুট্টু, জাফর আলম প্রকাশ সিআইপি জাফর, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের মিজানুর রহমান ও মেধাকচ্ছপিয়ার খলিলুর রহমান।

জমি মালিকপক্ষের লোকজন জানান, বাদির এজাহারটি আমলে নিয়ে চকরিয়া থানার ওসি তদন্তের জন্য থানার এসআই মো.আবু সায়েমকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেছেন এসআই আবু সায়েম। ওইসময় তিনি উল্লেখিত লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি স্থানীয় ১১৪টি পরিবারের মালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত সম্পদ তা স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জেনেছেন।

জমি মালিক পক্ষের অংশিদাররা জানায়,খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার বিএস ১৫৬খতিয়ানের ৫৮একর ৪৯শতক ও বিএস ৭৬ খতিযান ১২৫ একর ১১ শতকসহ দুই খতিয়ানে মোট ১৮২একর লবন ও চিংড়ি জমি রয়েছে স্থানীয় ১১৪ পরিবারের। এসব জমি তাঁরা ক্রয়সুত্রে মালিকানাধীন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এসব পরিবার জমি গুলোর বিপরীতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবছর যথারীতি খাজনাও (রাজস্ব) পরিশোধ করে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। ইতোমধ্যে সকলের নামে আলাদা জমাভাগ খতিয়ানও সৃজন হয়েছে উপজেলা ভুমি কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।

বাদি জাকেরা বেগমসহ মালিকপক্ষের লোকজন অভিযোগ তুলেছেন, তাঁরা উল্লেখিত লবণমাঠ ও চিংড়িজমি শান্তিপুর্ণভাবে ভোগদখলে থাকলেও সম্প্রতি সময়ে ভুমিদস্যু চক্রের সদস্যরা এসব জমি অবৈধ ভাবে দখলে নিতে অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে।

সর্বশেষ গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ভাড়াটে একটি অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদল ১৮২ একর লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি দখলে নিতে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। ওইসময় ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে খামারঘর ভাংচুর এবং ঘেরের বাঁধ কেটে দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে ভুক্তভোগী মালিকপক্ষের।

হামলার ঘটনায় এজাহার প্রাপ্তি নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার এসআই মো.আবু সায়েম বলেন, ১১৪ পরিবারের পক্ষে লবণমাঠ ও চিংড়ি জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে জাকেরা বেগম নামের এক নারী থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। এটি তদন্তাধীন আছে। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।

এদিকে মেদা কচ্ছপিয়ার মৌজা (আর এস) খতিয়ান ৫৬/৫ জমির পরিমান (৫৮ একর) আবদুল জালিল মাষ্টার (আর এস) খতিয়ান ৫৬/৬ হাজী গুরা মিয়ার (এম আর আর) খতিয়ান ৩৫ (এম আর আর) খতিয়ান ৩৮। বিএস খতিয়ান ১৫৬ – ৫৮ একর বিএস খতিয়ান ৭৬ হাজী গুরা মিয়ার নামে ১২৫ একর ১১ শতক। এদের ওয়ারিশগন হইতে বিভিন্ন রেজিষ্টার কবলা মুলে খরিদ করে নিজ নিজ নামে জমা ভাগ সৃজন করে সন সন সরকারি খাজানা আদায়কারী ১১৪ পরিবার ভূমিদূস্যর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।