নিউজটি শেয়ার করুন

ক্ষমা চাওয়া নিয়ে বিতর্ক এবার ভারতে !

সিপ্লাস ডেস্ক:  বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কলকাতার একটি কালীপূজায় যোগ দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে যেভাবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তার জন্য ভারতের নানা হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এখন তার প্রতি হতাশ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতারা বলেছেন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি সাকিব আরো মর্যাদা দেবেন বলেই তারা আশা করেছিলেন।

তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা বলেছেন, আজকের বাংলাদেশে যে বাস্তবতা তাতে ‘প্রাণের ভয়ে’ কার্যত বাধ্য হয়েই যে সাকিবকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে এটা তারা বুঝতে পারছেন।

ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবার মন্তব্য করেছেন, ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দিয়ে সাকিব আসলে হিন্দুধর্মকেই অপমান করেছেন। বস্তুত ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কলকাতার একটি কালীপূজায় যোগদান এবং তাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঢেউ এবার বাংলাদেশ পেরিয়ে ভারতেও আছড়ে পড়ছে।

একজন ‘প্রকৃত মুসলমান’ হিসেবে কালীপুজোর অনুষ্ঠানে যাওয়াটাও তার উচিত হয়নি সোশ্যাল মিডিয়াতে সাকিব আল হাসানের এই বক্তব্য ভারতের হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলোও মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতা ড. সুরেন্দ্র জৈন যেমন বলেছেন, সাকিবের মতো তারকা ক্রিকেটারের কাছ থেকে তারা আরো নির্ভীক আচরণ প্রত্যাশা করেছিলেন।

ড. জৈন বলেছেন, কালীপুজায় যাওয়াটা কীভাবে বড় অপরাধ হতে পারে? হিন্দু ও খ্রিষ্টানরা কি মুসলিমদের ইফতার পার্টিতে যোগ দেন না? অনেক হিন্দু তো নামাজেও সামিল হন। এটা দুর্ভাগ্যের যে কালীপুজায় যাওয়ার অপরাধে বাংলাদেশে একজন তারকাকেও প্রাণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কিংবা ফেসবুক পোস্টের বাহানায় হিন্দুদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, সাকিব আল হাসানের মতো একজন নন্দিত ক্রিকেটার এই ইসলামী মৌলবাদের নিন্দা করবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা ছিল। তার কাছ থেকে এই বার্তাটাই চেয়েছিলাম, যে বিভিন্ন ধর্মের সহাবস্থান তখনই সম্ভব যখন পরস্পরের প্রতি সম্মান থাকে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় বলেছেন, বাংলাদেশের মৌলবাদের বিরুদ্ধে ভারতে যে যথেষ্ঠ প্রতিবাদ দানা বাঁধেনি সাকিব আল হাসানকে নিয়ে এই বিতর্কে এটাই সবচেয়ে আক্ষেপের বিষয়। এই যে গর্দান নেওয়ার ভয় দেখিয়ে একজনকে কালীপুজার উদ্বোধন থেকে নিরস্ত করা হলো তার বিরুদ্ধে ভারতে তেমন কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না এটাই তো সবচেয়ে দু:খের বিষয়।

তিনি বলেন, ভারতে যারা ধর্মনিরপেক্ষতার বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন, সেই তথাকথিত সেক্যুলাররা তো কেউ একবারও বললেন না যে বাংলাদেশে এই যে লোকটি হুমকি দিয়েছে সে একটা ঘোর অন্যায় করেছে? সাকিবের যদি কালীপুজা উদ্বোধন করার ইচ্ছে হয় তাহলে তাকে সেটা করতে দেওয়া উচিত, এটা তো তাদের বলা উচিত!

কলকাতার যে পূজাতে সাকিব এসেছিলেন সেখানে তিনি একজন মুসলিম হিসেবে নন, বরং ধর্মের ঊর্ধ্বে একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার হিসেবে এসেছিলেন সেটা আয়োজকদের স্পষ্ট করে দেওয়া উচিত ছিল বলেও অনেকে মনে করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, অন্য কোনো কারণ নাই। প্রবাসীদের যারা চলে আসছে তাদের কিছু টাকা জমানো ছিল। সেসব নিয়েই তারা চলে আসছেন। বা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এছাড়া আগে মানুষ হুন্ডিতে পাঠাতো। এখন নগদ প্রণোদনা পাওয়ার আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠায়। তাই প্রবাসী আয় বাড়ছে।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্স রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মূলত পণ্য রপ্তানি নয় জনশক্তি রপ্তানি ভাল হওয়ায় রিজার্ভ বাড়ছে। সর্বোপরি এই রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে।

রেমিট্যান্সে সরকারের নগদ প্রণোদনার উদ্যোগই সবচেয়ে সফল বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের  (বিআইডিএস) সাবেক গবেষণা পরিচালক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখ্ত।

ড. জায়েদ বলেন, রেমিট্যান্স শক্তিশালী হলে রিজার্ভ বাড়ে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ে। লেনদেনে গতি থাকে। এতে অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। অতএব এই প্রবাসী আয় অর্থনীতিকে শক্তিশালি করে তুলছে। এতে সন্দেহ নেই।

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবমতে রিজার্ভ বর্তমানে চার হাজার কোটি ডলারের বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় তিন লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি (প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ধরে)।