নিউজটি শেয়ার করুন

করোনায় একদিনে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

সিপ্লাস ডেস্ক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে আরও দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- নায়েক আল মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল মো. মোখলেছুর রহমান।

মামুন ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। আর মোখলেছুর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অধীন সদর কোর্টে কর্মরত ছিলেন। এ নিয়ে পুলিশের ১১ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। তাদের মৃত্যুতে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা জানান, কনস্টেবল মোখলেছুর রহমানের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি থানার টামটা গ্রামে। তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা ও এক পুত্র রেখে গেছেন। তার মরদেহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন জানান, নায়েক মামুনুর রশিদের গ্রামের বাড়ি লক্ষীপুরের রামগতি উপজলোয়। রাজধানীর মুগদাপাড়ায় তিনি বসবাস করতেন। ৫/৬ দিন আগে তার সামান্য জ্বর দেখা দেয়। বড় ধরনের দৃশ্যমান শারীরিক সমস্যা তার দেখা যায়নি। যথাযথ মর্যাদায় পরিবারের সদস্যদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন তিনি।

এ দিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুলিশে করোনা আক্রান্ত তিন হাজার ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজর ২৩৫ জন পুলিশ সদস্য। তার মধ্যে ডিএমপির ১ হাজার ২৭৭ জন। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৩ হাজার ৫০০ জন। আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ২৩৩ জন। সব মিলিয়ে পুলিশের ৫৬৯ জন সদস্য সুস্থ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের ২০ জন করোনা আক্রান্ত সদস্য সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

করোনাযুদ্ধে আত্মোৎসর্গ করা বাকি নয় সদস্য হলেন- ডিএমপির কনস্টেবল জালাল উদ্দিন খোকা (৪৭), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্রী রঘুনাথ রায় (৪৮), কনস্টেবল জসিম উদ্দিন (৪০), এএসআই মো. আব্দুল খালেক (৩৬), কনস্টেবল মো. আশেক মাহমুদ (৪৩), উপপরিদর্শক (এসআই) সুলতানুল আরেফিন (৪৪), এসবির এসআই নাজির উদ্দীন (৫৫), এসআই মো. মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬) এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কনস্টেবল মো. নঈমুল হক (৩৮)।

পুলিশ সদরদফতর জানিয়েছে, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বাহিনীর সদস্যদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন এবং তাদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সুচিকিৎসা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের পাশে যাচ্ছেন, তাদের সাথে কথা বলছেন, তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সদা তৎপর থাকছেন।