নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারের নারী চিকিৎসক গুলশান আক্তার আরিশ’র সাফল্য

সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার: ডা. গুলশান আক্তার আরিশ, যিনি চিকিৎসক হিসেবেও মেধাবী। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাজ্য রয়েল কলেজ অফ ফিজিসিয়ান এর মেম্বারশীপ পরীক্ষা এমআর সিপি (ইউকে) পার্ট-১ পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে দেখিয়ে দিলেন চিকিৎসকরা চাইলেই সব পারেন।

ডা. আরিশ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী। ২০০৯ সালে কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। ২০১১ সালে ভর্তি হন চট্টগ্রাম সরকারী কলেজে এইচএসসি-তে।

পরিবার থেকে পেয়েছেন সহযোগীতা আর অনুপ্রেরণা। বাবা কক্সবাজারের দক্ষিণ রুমালিয়াছড়ার বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মোঃ নুরুচ্ছফা ও মা মোর্শেদা খানম এর মেধাবী মেয়ে গুলশান আক্তার আরিশ।

২০১২ সালে চান্স প্রাপ্ত হয়ে ভর্তির সুযোগ পান সিলেট জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজে। সেশন ২০১২-২০১৩। পড়াশোনা করতে ছোটবেলা থেকেই খুব ভালো লাগতো আর মেডিকেলের কিছু বন্ধুর অনুপ্রেরনা আর সাহায্য তার মেডিকেলের যাত্রাকে আরও সহজ করেছে। দক্ষতার সাথে এমবিবিএস পাশ করেন আরিশ ২০১৮ সালে ও জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ইন্টার্নি শেষ করেন।

শুরু হয় চিকিৎসক হিসেবে ডাক্তার আরিশ’র পথ চলা।

মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে তিনি এমআরসিপি এর পড়াশোনা শুরু করেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে (মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ) বিষয়ে এমআরসিপি পার্ট ১পাশ করেন। এরপর কক্সবাজার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। ডা. আরিশ মেডিসিন রোগ বিশেষজ্ঞ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। এর সাথে নতুন সাফল্য যোগ হলো যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি তে চান্স পাওয়া। শুরু হলো তার ট্রেনিং। চলতি বছরে এই ফেব্রুয়ারীতে তিনি উত্তীর্ন হলেন। ডা. আরিশ এগিয়ে চলছিলেন ও কঠোর পরিশ্রম করছিলেন একজন দক্ষ চিকিৎসক হওয়ার জন্য। কিন্তু এর মাঝে একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় বদলে দেয়।

প্রতিটা নারীর সফলতার পেছনে একজন ভালো, বন্ধুসুলভ অনুপ্রেরণা ও সাহায্যদানকারী অনেক বেশী দরকার। ডা.আরিশ’র বেলাতেও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি।

ডা.আরিশ’র বাবা আলহাজ্ব নুরুচ্ছফা। তিনি একজন ব্যবসায়ী। ১ মাত্র কন্যার মেধার মূল্যায়ন সব সময় করেছেন তিনি। মূলত পিতা- মাতার অনুপ্রেরনাতেই আমার ডাক্তারি পড়া শুরু। অনেক বেশী সাহায্য সহযোগীতা পেয়োছি তাদের কাছ থেকে। আজ আমার এমআরসিপি হওয়ার পিছনে তার ভূমিকা অনেক বেশী। বললেন ডা. আরিশ।

ডা. আরিশ বলেন, অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট হিসেবে কাজ করা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের নারী যা দেখে অনেক বেশী উৎসাহ পেয়েছি আমি। আর আমরা চিকিৎসকরা বাংলাদেশে কতটা পরিশ্রম করে চিকিৎসক হই ও তার পরে ভালো ক্যারিয়ার গড়তে যতটা কঠিন পথ অতিক্রম করি তা একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি জানি। কিন্তু বিনিময়ে চিকিৎসকরা যথার্থ মর্যাদা পান না। তাদের ন্যায্য দাবি দাওয়া আদায় হয় না। কারণ চিকিৎসকদের দাবী দাওয়া তাদের কথা উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে জানানোর মতো কেউ নেই। তাই মনে হয়েছে কারও এগিয়ে আসা উচিত। যুক্তরাজ্যের ইউকে মেম্বারশীপ হওয়া আমার ইচ্ছাপূরণকে সহজ করবে বলে আমি আশাবাদী। অত্যন্ত আবেগজনিত ভাষায় কথাগুলা বলছিলেন ডা. গুলশান আক্তার আরিশ।

পড়াশোনার পন্থা ও কিভাবো এ সফলতা- এ প্রসঙ্গে ডা. আরিশ জানান, তিনি মেডিকেল শিক্ষার্থী ছিলেন তাই নিয়মিত পড়ার অভ্যাস আছে তার। এটাই তাকে সবচেয়ে বেশী সহায়তা করেছে। নিজের সর্বোচ্চ পরিশ্রমটুকু করেছেন। সকালে বিকালে হাসপাতাল ডিউটি করে দিনে পড়ার সময় পেতেন না। রাতে টানা ৫-৬ ঘন্টা পড়েছেন। চেষ্টা করেছেন সব বুঝে বুঝে পড়তে আর নিয়মিত পড়েছেন। অধ্যবসায়, পরিশ্রম আর দৃঢ় ইচ্ছার জন্য সম্ভব হয়েছে ভালো ফল করার তাছাড়া চাকরির এই দুর্ভোগের যুগে চিকিৎসাকে সম্মানকজনক ও নিরাপদ মনে হয়েছে বলে জানান তিনি।

ডা. আরিশ’র পিতা আলহাজ্ব নুরুচ্ছফা বলেন, ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা কতটা খুশি আমি। গর্বিত বাবা আমি। ২ ভাই ১ বোনের সংসারে ডা.আরিশ ছাড়াও বাকি সবাই অত্যন্ত মেধাবী।

সব মেয়েদের উদ্দেশ্যে এই মেধাবী চিকিৎসক আরিশ বলেন, আমরা নারীরা অনেক শক্তিশালী। নিজের উপর বিশ্বাস রাখলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে মেয়েরা সব পারবে। এরকম হাজারও আরিশ তৈরী হোক ঘরে ঘরে যারা সমাজকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিবেন নারীরা পুরুষের চেয়ে কোন অংশে কম নন।