নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছেড়ে দিল পুলিশ!

কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছেড়ে দিল পুলিশ!

সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার:  কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের সাতঘরিয়া পাড়াস্থ লাল শরিয়া পাড়া এলাকা থেকে শফিউল আলম নামের গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত এক আসামীকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সে একই এলাকার মৃত অজি উল্লাহর ছেলে এবং প্রতারণা মামলার ১নং আসামি।

ঘটনাটি ঘটেছে ৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১২ টায় বর্ণিত স্থানের আসামির নিজ বসত ঘরে।

এ ঘটনায় বাদীর ছোট ভাই মোহাম্মদ হাসান থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মামলার ফৌজদারি দরখাস্ত ও লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড এলাকার রহমত উল্লাহর ছেলে বর্তমানে প্রবাসী নুরুল কবির বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন যার নং ২০/২০২০। মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলও) কে৷ পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩ জনকে বাদ দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন আদালতে। সেখান থেকে একজন নারী আসামী বাদীর সাথে আপোষ মিমাংসা করে পেলে। বাকী ২জন আসামী শফিউল আলম ও নুরুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ইত্যবসরে ২নং আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন পুলিশ।

এদিকে বাদীর স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বেলা ১২ টার দিকে আসামীর বসতবাড়িতে অভিযানে যায় ঈদগাঁও থানার সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আবদু রশীদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ১নং আসামী শফিউল আলম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাদীর ছোট ভাই মোহাম্মদ হাসান ও ছেলে সায়মুন কবির বাপ্পি জানায়, আসাামী শফিউল আলমকে গ্রেফতার করার পর এএসআই আবদু রশীদ আসামীর বাড়িতে যায়। সেখানে তারা ২০/৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর আসামিকে ছেড়ে দিয়ে চলে আসে। তাদের ধারণা পুলিশ কর্মকর্তা আসামি থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই আবদু রশীদ গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আসামী শফিউল আলম অসুস্থ, তার হার্টে রিং পরানো এবং পা- ফোলা। মানবিক বিবেচনায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পা ফোলা হলে পুলিশ দেখে আসামী দৌঁড়তে পারলেন কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে এএসআই আবদু রশীদ উল্টো বলেন এই প্রশ্ন আপনি আমাকে করতে পারেন না!

ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী এভাবেই ছেড়ে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সিনিয়র অফিসারদের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ঈদগাঁও থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই শামীম আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও একই কথা জানিয়ে বলেন, আসামি অসুস্থ, গ্রেফতারের পর কিছু একটা হয়ে গেলে দায়ভার পুলিশের উপর চলে আসবে। তবে রোগীর চিকিৎসা সনদ আনা হয়েছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments