নিউজটি শেয়ার করুন

এহনও সাতকাইন্ন্যার মানুষ ব্যবসা ছাড়া কিছু নবুঝের!

জোবাইর রিফাত: চট্টগ্রামের উত্তর-দক্ষিণের উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রোগী সাতকানিয়া উপজেলায়। এটি এখন করোনার সুপার হটস্পট হিসেবে সারাদেশে ব্যাপক পরিচিত।

এরমধ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকার ঘোষণা দেয় গেলো ১০ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। এ যেন সাতকানিয়া পৌরসদরের কাপড় ব্যসায়ীদের জন্য ঈদের মুনাফা তুলে নেয়ার মুক্ষম সুযোগ।

যেকথা সেই কাজ! স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে চলছে বেচা-কেনা। পৌরসদরের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দোকানে নেয় কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে দেখা যায়, কারো মুখে কোনো মাস্ক নেয়। মহিলারা ছোট-ছোট বাচ্চাদের নিয়ে স্বাভাবিক সময়ের মত মার্কেটে ভীড় জমিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী সিপ্লাসকে বলেন, ‘এহনও সাতকাইন্ন্যার মানুষ ব্যবস্থা ছাড়া কিছু নবুঝের’! আমরা সাতকানিয়ার মানুষরা ব্যবসার জন্য পৃথীবিজুড়ে পরিচিত। তাই বলে, ‘এখনও সাতকানিয়া পৌরসদরের ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের জন্য নিয়ম নীতির পরোয়া না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে মানুষকে মার্কেটে আসতে উদ্বুদ্ধ করাটা ক্ষমাহীন অপরাধ’।

সাতকানিয়া পৌরসভার চিকন গলির এক কাপড় ব্যবসায়ী সিপ্লাসকে বলেন, আমি বৈঠকে যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন আমাদের বন্ধ করে দিতে বললে আমরা বন্ধ করে দিবো।

জানা গেছে গেলো ১০ মে পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়েরের আহ্বানে সাতকানিয়া পৌরসদরের ব্যবসায়ীদের একটি দল বৈঠকে বসে। এসময় ব্যবসায়ীরা মেয়রকে ভোগ্যপণ্য ছাড়া কোনো দোকানপাট না খোলার প্রতিশ্রুতি জানান বলে মেয়র জোবায়ের তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সেটি লিখেন।

বর্তমান চিত্র ও ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে মেয়র মোহাম্মদ জোবায়েরের কাছে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ব্যবসায়ীরা যে কথা রাখবেনা সেটা আমার ধারণাতীত ছিল। কেরানীহাটের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে। পৌরসভার স্বর্ণব্যবসায়ীরাও তাদের দোকান বন্ধ রেখেছে।

সমাধান হিসেবে এ বিষয়ে আগামী উপজেলার করোনা বিষয়ক প্রতিরোধ কমিটির সাথে বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা করোনা বিষয়ক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. আব্দুল মজিদ ওসমানী সিপ্লাসকে বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানার কোনো বিকল্প নেয় এবং যানবাহনে পার্টিশন দেয়াও সময়ের দাবি। আমি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানায়। সাতকানিয়ার ব্যবসায়ীদের তিনি স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সফিউল কবীর সিপ্লাসকে বলেন, আমরা যখন যাকে যেভাবে পারছি সচেতন করছি। তবে বেশিরভাগ দোকানীরা স্বাস্থ্যবিধি মানছেননা।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নূর-এ-আলম সিপ্লাসকে বলেন, মার্কেট খোলা রাখার বিষয়টি জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি গতকালও মোবাইল কোর্টে বের হয়েছি। এখনও কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি। শুধু সচেতন করে যাচ্ছি। তবে শীঘ্রই কঠোর ব্যবস্থা নিবো।

প্রসঙ্গতঃ গেলো ১৫ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন সাতকানিয়া উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে। এ নিয়ে সাতকানিয়ায় করোনাক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন (মৃত ১) এবং সুস্থ হয়েছেন ১৭ জন।