নিউজটি শেয়ার করুন

এনজিও কর্মীর কঙ্কাল উদ্ধার হলেও কথিত তক্ষক ব্যবসায়ী বাবুলকে ছাড়িয়ে নিলকে ?

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন এলাকায় অপহরণের ১ বছর পর গহীন জঙ্গলে থেকে এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীনের কঙ্কাল ৫০ ফুট গভীর মাটি খননের পর ১৯ নভেম্বর রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ।

কিন্তু গত বছরের ২২ নভেম্বর অপহরনের সময় হেলালের সাথে থাকা বাবুল সিকদার (৪২) মুক্তি পেলে ও এনজিও কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন (৪৫) মুক্তি পাইনি। ঘটনার পর বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদ হতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে বাবুলকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটি কে ?

সরেজমিনে গেলে জানা যায়, দক্ষিণ ফানুয়া ও নুরপুর নামক স্থানে জনৈক জাহাঙ্গীরের দোকানের সামনে রাস্তা দিয়ে হেলাল ও বাবুলকে তক্ষক এর কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় উঁচু পাহাড়ের উপর নির্জন স্থানে। সে স্থানে এক ব্যক্তির খামার ঘর ছিল। ঘরে বসবাসের জন্য পানির কূপ খনন করা হলে পানি উঠেনি।

পরবর্তীতে খামার ঘর ছেড়ে চলে যায়। সেখানে হেলালকে মুক্তিপনের জন্য পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ কূপে ফেলে দেয়। বাগান বাজার এলাকায় তক্তকের কথা বলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মানিক, শাহজান, রাজা,বিল্লাল সহ ১০/১২ জনের একটি সঙ্ঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। সে চক্রের বিল্লাল ও রাজাকে গ্রেফতার করার পর সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এসময় বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুস্তম আলী বলেন, এনজিও কর্মকর্তা হেলাল ও বাবুল সিকদারকে তক্ষক ক্রয় করার নামে নিয়ে আসা হলে ও পরে বাবুল কথিত অপহরনকারীদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে এলাকায় আসে। পরে পার্ত্য জেলার গুইমারা হতে এক মেজর ফোন করে বলেন, আপনার এলাকায় এক মহিলার স্বামী নিখোঁজ আছে ; সে মহিলাকে পাঠাচ্ছি।

এর দেড় ঘন্টা পর মহিলাটি আসলে কথা শুনে মহিলাটির স্বামীর সাথে আসা কথিত অপহরণকারীদের নিকট থেকে ফিরে আসা বাবুলের গতিবিধি সন্দেহ জনক হওয়ায় তাকে বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদে বসিয়ে রেখে ভূজপুর থানা পুলিশকে জানানোর পর পাশ্ববর্তী রামগড় উপজেলার এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে বলেন, বাবুলকে বসিয়ে রাখছেন কেন।

এনজিও কর্মকর্তা হেলালকে আহত অবস্থায় ফেনীতে সড়কের পাশে পাওয়া গেছে। সুতারাং বাবুলকে দ্রূত ফেনীতে পাঠান ও হেলালের পরিবারে খবর দিতে বলেন।

এসময় রামগড়ের উক্ত ব্যক্তি ফেনীর হাইওয়ে পুলিশের মোবাইল নং দেয়। যেহেতু ফোনে পুলিশ না অন্য কেহ দেখি নাই । সে মোবাইলে কথা বললে হেলালকে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান।

তিনি আরো বলেন, বিষয়টি থানার ওসি কে জানালে তিনি এএস আই আল আমিনকে পাঠাই। তখন তিনি ও হাইওয়ে পুলিশ পরিচয় দেয়া লোকটির সাথে কথা বলে। পরে ওসি’র সাথে কথা বলে বাবুলকে হেলালের নিকট চলে যেতে বলেন। বাবুল ইউনিয়ন পরিষদ হতে বের হয়ে সিএনজি নিয়ে চলে যায়।

আসলে পুলিশ সেজে বাবুলকে ইউনিয়ন পরিষদ হতে নিয়ে যাবার জন্য রামগড়ের ঐ ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করেছে। প্রতারণা করে বাবুলকে নিয়ে যাবার পর জানা গেল এনজিও কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় সড়কের পাশে পাওয়া তথ্যটি মিথ্যা।

এখন এক বছর পর গত ১৯ নভেম্বর হেলালের কন্কাল উদ্ধারের পর গত শনিবার রাত ৯ টায় ভূজপুর থানার ওসি শেখ আবদুল্লাহ ও গত শনিবার বিকালে বাগান বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুস্তম আলীর বক্তব্যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাবুলকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবার বিষয়টি উঠে আসে।

বাবুলকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছাড়িয়ে না নিলে এনজিও কর্মকর্তা হেলালকে হয়তো উদ্ধার করার জন্য পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যেত।

এখন রামগড়ের ঐ ব্যক্তিকে আটক করলে এ ঘটনার আরো অনেক রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।