নিউজটি শেয়ার করুন

এক ডোজ টিকা নিশ্চিত হলেই খুলবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, টিকা জটিলতায় শিক্ষার্থীরা

এক ডোজ টিকা নিশ্চিত হলেই খুলবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সিপ্লাস প্রতিবেদক: প্রায় দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত মাসের (আগস্ট) মাঝামাঝি থেকে নানা অনুষদের পরীক্ষা শুরু হলেও চবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া বন্ধ আছে। সবগুলো আবাসিক হলও বন্ধ আছে। শাটল ট্রেন বন্ধ থাকায় পরীক্ষা দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে। শুধুমাত্র পরীক্ষা চললেও চবি’র শিক্ষা কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধই রয়েছে। আবার কখন হল খুলবে, কখন নিয়মিত ক্লাস চালু হবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কিছুই জানা যাচ্ছে না।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের করোনার এক ডোজ টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারলেই কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হবে।

ইউজিসির এ সদস্য বলেন, ‘যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল রয়েছে, সেখানে ঝুঁকি বেশি। তাই শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত না করে আবাসিক হলযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হলে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে। সবকিছু চিন্তা ভাবনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিব।’

তিনি আরও বলেন, ‘টিকার আওতায় যারা আসছে সেসব শিক্ষার্থীদের তালিকা চেয়েছে ইউজিসি। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আজকে শেষ সময় তালিকা জমা দেওয়ার। গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও জমা দিয়েছে। যারা দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন করেছে, যারা এক ডোজ, যারা রেজিষ্ট্রেশন করেও টিকা পাননি এবং যারা রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেননি এ চার ক্যাটাগরিতে আমরা এসব ডাটা বিশ্লেষণ করবো। তালিকা পাওয়ার পর সেটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠিয়ে দেয়া হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের টিকা প্রদান করা হবে। মিনিমাম এক ডোজ টিকা কনফার্ম হলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিব।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি সেল শিক্ষার্থীর মাঝে অনলাইন জরিপ করলে সেখানে দেখা যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মাত্র ২৪ ভাগ শিক্ষার্থী টিকার আওতায় এসেছে।  ৭৬ ভাগ শিক্ষার্থী এখনো টিকা পাননি।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার কথা বললেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে কর্তৃপক্ষ যদি চায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও খুলতে পারবে- উপাচার্যদের এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে করোনা  সংক্রমনের শুরু থেকে চলতি বছরের আগস্ট এর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় দেড় বছর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গত মাস থেকে শিক্ষার্থীদের বন্ধ হয়ে যাওয়া নানা অনুষদের পরীক্ষা নেয়া শুরু করেছে চবি। কিন্তু কোন আবাসিক হল খুলেনি। গণপরিবহন সেবাও বন্ধ। কোন বিভাগে কোনরূপ ক্লাস নেয়া হচ্ছে না। এক কথায় পরীক্ষা ছাড়া শিক্ষা ও শিক্ষার্থী সম্পর্কিত সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রায় দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল বন্ধ থাকায় প্রায় সব শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে চট্টগ্রামের বাইরের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় চলে যায়। করোনা টিকার নিবন্ধনও করেছে তারা স্ব স্ব এলাকার ঠিকানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হঠাৎ করে ক্লাস ও হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেয়া আরম্ভ করায় সব শিক্ষার্থীকেই  বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসতে হয়। শিক্ষার্থীদের অনেকেই এক ডোজ টিকা পেয়েছে অনেকেই পায়নি। কারো কারো টিকা গ্রহণের মেসেজ আসছে এখন। কিন্তু পরীক্ষার কারণে কেউ টিকা গ্রহণের জন্য এলাকায় যেতে পারছে না। ফলে তারা অসহায় বোধ করছে।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোতাহের সিপ্লাসকে বলেন, আমার বাড়ি সিলেট। যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতেই ছিলাম তাই করোনার নিবন্ধনও বাড়িতেই করি। গত মাসের ৯ তারিখ আমি করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিই। এই মাসের ৯ তারিখ আমার দ্বিতীয় টিকার ডোজ নেয়ার নির্ধারিত সময় ছিল। কিন্তু এগারো তারিখ আমার আবার পরীক্ষা আছে। তাই চট্টগ্রাম থেকে সিলেট গিয়ে টিকা নিয়ে আবার একদিনের মধ্যে টিকা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

শিক্ষা গবেষনা বিভাগের আরেকজন ছাত্র আল আমিনের সাথে কথা বললে সে জানান, তার বাড়ি খুলনায়। সেও তার গ্রামের বাড়িতেই টিকার নিবন্ধন করে। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তাকে টিকা না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসতে হয়। কিন্তু টিকা কিভাবে পাবে, কবে পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে এক ডোজ টিকা গ্রহন করতেই হব। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, হল খোলার ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি আছে আবার সরকারের তরফ থেকেও গ্রীণ সিগন্যাল আছে। এখন শতভাগ শিক্ষার্থীদের টিকা প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হলেই আমরা হল খুলব।

হল খোলার জন্য আমরা সবরকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। যেসব সংস্কার কাজ বাকি ছিল সেসবও আমরা শেষ করেছি। টিকার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল খোলা ও ক্লাস চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

যেসব শিক্ষার্থী এক ডোজ গ্রামের বাড়িতে দিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে তাদের দ্বিতীয় ডোজের ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়? এমন প্রশ্নের জবাবে রেজিস্টার বলেন- আমাদের কাছে টিকা গ্রহীতা সব শিক্ষার্থীর তালিকা নাই। এরপরও যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসতে বাধ্য হয়েছে তাদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করে শীগ্রই একটা ব্যবস্থা করব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

যেসব শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র নাই, (চবি প্রশাসনের হিসেব মতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২০% এর এনআইডি নাই) তাদের টিকা কিভাবে দেওয়া হবে জানতে চাইলে রেজিস্টার সিপ্লাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর আছে সেটা দিয়েই চবি প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় তাদের টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ইউজিসির সিদ্ধান্ত হচ্ছে সকল ছাত্রকে কমপক্ষে একটা টিকা হলেও গ্রহণ করতে হবে। চবি প্রশাসনের গলায়ও প্রায় একই সুর। অন্যদিকে ছাত্রদের টিকার আওতায় আনার সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা দৃশ্যমান না। এমতাবস্থায় কখন বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে সেটা আসলে নিশ্চয়তা দিয়ে বলা যাচ্ছে না। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে অনেকের অভিমত।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments