নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদগাঁও’র চৌফলদন্ডিতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নারী নির্যাতন

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কনকনে শীতের মধ্যরাত। গাছের সাথে বাঁধা অসহায় এক গৃহবধূ। নাম তার রোকেয়া( ছদ্মনাম)।

সেখানে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্থানীয় মেম্বার কক্সবাজার সদরের(চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড) মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গীর নেতৃত্বে একদল মানুষরূপী পশু। হায়েনার মত তাদের পিটপিট চোখ রাতের আঁধারেও জ্বলজ্বল করছে।

গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে ওই পশুর দল শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেছে ওই নারীকে। কেউ কেউ বেধড়ক পিটাচ্ছে। কেউ আবার শাড়ি-ব্লাউজ ধরে হেচঁকা টান দিয়ে নির্যাতনের বন্যতৃপ্তি নিচ্ছে।

এখানে থেমে নেই, এই পশুদের কেউ কেউ ভীড়ভাট্টা ঠেলে ওই গৃহবধূর স্পর্শকাতর অঙ্গে হাত দিয়ে কচলাকচলিও করেছে।

যন্ত্রণাকাতর ওই নারী সে রাতে ইজ্জত বাঁচাতে আকাশ বাতাস ভারী করা আর্তনাদে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছে। গগনবিদারী ডাকে বিলাপ করেছে। কোন মানুষের কানে সে আওয়াজ পৌঁছেনি। কেউ এগিয়ে আসেনি। এসেছে শুধু বন্যতার ইন্দ্রিয়সুখ নেয়ার কামলালসায়।

বেইজ্জতির গ্লাণি,নিপীড়ণের কষ্ট আর হায়েনাদের দেহ খামচানোর বর্বরতা নীরবেই চোখের জলে সহ্য করেছে সে।

এটি আইয়্যামে জাহেলিয়া বা মধুযুগীয় বর্বরতার কাহিনীনির্ভর হলিউড কিংবা বলিউডি সিনেমার চিত্রনাট্য নয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডি ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামের সংঘটিত নারী নির্যাতনের খণ্ডচিত্র।

জানা গেছে গত ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গীর নেতৃত্ব একদল স্থানীয় দূর্বৃত্ত গৃহবধূ রোকেয়া(ছদ্মনাম) কে তাঁর ঘর থেকে টেনেহেচঁড়ে বের করে রাস্তার পাশে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত একনাগাড়ে চলে এই পৈশাচিক নিপীড়ণ। সেই সাথে চলে ওই নারীর শ্লীলতাহানি।

ওই ঘটনার ভিডিও চিত্র ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে, মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এতে চারদিকে নিন্দা,ঘৃণা ও ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে এবং ওই পাশবিক নির্যাতনের সংগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠে।

সরেজমিনে ওই নারী নির্যাতনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেই দিন মধ্যরাত ২টা দিকে স্থানীয় মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গীর নেতৃত্বে একই গ্রামের কবির আহমদ,ইলিয়াস, শাহাবুদ্দিন, রাশেল,এরশাদ চৌকিদার,জহির দফাদার,রণি, রাজু ও আমির হোসেন হানাদারবাহিণীর মত আচমকা রাতে আধাঁরে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে পড়ে।

ঘুমন্ত রোকেয়াকে( ছদ্মনাম) ‘পরকীয়া প্রেমের অভিসারে লিপ্ত ‘ এই অভিযোগে টেনেহেচঁড়ে ঘর থেকে বের করে রাস্তার পাশে একটি গাছের সাথে বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় লাঠিপেঠা করে। শাড়ি-ব্লাউজ ধরে টেনে অর্ধনগ্ন করে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে কচলাকচলী করে শ্লীলতাহানি করে। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে দফায় দফায় চলে এই নির্যাতন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বামী অসহায়ের মত চেয়ে চেয়ে দেখেছে ওই নিপীড়ণের চিত্র।

নির্যাতিতার স্বামী বলেন,আমার স্ত্রী সেদিন আমার পাশেই ঘুমিয়ে ছিল। পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি মেম্বারের সাজানো নাটক। দীর্ঘদিন ওই চক্রটি আমাদের দারিদ্রতার সুযোগে ভিটাবাড়ী দখল এবং ওই দূর্বৃত্তরা বিভিন্ন সময় আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে প্ররোচিত করত। সে প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে নানা অযুহাতে আর অভিযোগে আমার পরিবারকে নিগৃহীত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

নির্যাতিতা রোকেয়া ( ছদ্মনাম) বলেন, আমার স্বামী একজন শ্রবণ প্রতিবন্ধি। সেই সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চিহ্নিত কতিপয় লম্পট ও দূর্বৃত্ত আমাকে নানাভাবে উত্যক্ত করে আসছে। তারা সফল না হওয়ায় স্থানীয় জাফরকে জড়িয়ে আমার সাথে পরকীয়া প্রেমের মুখরোচক গল্প বানায় এবং সেদিন ওই নাটকটি মঞ্চস্থ করে। মূলত জাফরও ওই দূর্বৃত্তদলের একজন। আমি এই বর্বরোচিত ঘটনার বিচার চাই।

ঘটনার বিষয়ে চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুল বলেন,তিনি ওই ঘটনা জানেন না। কেউ তাকে অভিযোগও দেয়নি ।

অভিযুক্ত মেম্বার মোহাম্মদ মিয়া জঙ্গীর কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত নন দাবি করে বলেন, নির্যাতন থেকে ওই মহিলাকে বাঁচাতে সেদিন এগিয়ে আসি।

এই ঘটনা ইতোমধ্যেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয়দের দাবি,মধ্যযুগীয় কায়দায় এমন নারী নির্যাতনের সাথে জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।