নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদগাঁওতে বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে মহিলাদের মারধর ও শ্লীলতাহানি!

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জের উচ্ছেদ অভিযানকালে মাদ্রাসা পড়ুয়া তরুণীসহ মহিলাদের মারধর ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এতে বনবিভাগের ভুমিকায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ঈদগাঁও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদে এ অভিযান চালানো হয়।

উল্লেখিত এলাকার কালা মিয়ার ছেলে ক্ষতিগ্রস্থ মোটর শ্রমিক ছৈয়দ আলম শিমুল জানান, তার ও স্ত্রীর অনুপস্থিতে বন বিভাগের লোকজন তার নির্মিতব্য ছোট্ট সেমিপাকা রান্না ঘরটি উচ্ছেদ করতে আসে। এসময় ঘরে থাকা মাদ্রাসা পড়ুয়া তরুণী কন্যা তার পিতা-মাতার অনুপস্থিতিতে রান্না ঘরটি না ভাঙ্গার অনুরোধ করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে বনবিভাগের লোকজন তার মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে টেনেহিঁচড়ে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এ দৃশ্য দেখে চাচী শামীনা আক্তার এগিয়ে আসলে তাকেও মারধর করে মুহুর্তেই সেমিপাকা রান্না ঘরটি গুড়িয়ে দেয়।

শ্রমিক শিমুল কান্না জড়িত কন্ঠে জানান,সে স্বল্প বেতনে গাড়ি চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনরকম সংসার চালিয়ে আসছিল। সে এনজিও ঋণ নিয়ে ছোট্ট সেমিপাকা রান্না ঘরটি নির্মাণ করছিল।স্থানীয় চিহ্নিত কিছু কুচক্রী এ সংবাদ বনবিভাগকে জানালে গত মঙ্গলবার ভোমরিয়াঘোনা বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন তাকে বনবিটে ডেকে নিয়ে উচ্ছেদ না করার বিনিময়ে রেঞ্জ কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তার দাবি পুরণ না করায় আজকে সে এবং তার স্ত্রী শামশুন্নাহারের অনুপস্থিতে অভিযান চালিয়ে তার মাথা গুজার একমাত্র ঠাইটি উচ্ছেদ করে।

ঐসময় না ভাঙ্গতে অনুরোধ করায় তার মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা ও ভাবীকে মারধর পূর্বক চরম শ্লীলতাহানি করে বলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

অথচ তার বাড়ির চার পাশে বনবিভাগের জায়গায় শতশত দালান ও ঘর বাড়ি গড়ে উঠেছে। এমনকি বর্তমানেও তার আশপাশে ডজনাধিক দালান নির্মাণ হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু সম্পন্নও হয়েছে। এসব দালান থেকে বনবিভাগ লাখ লাখ টাকা অবৈধ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এসব স্থাপনা করতে দিচ্ছে। কিন্তু সে ঋণ নিয়ে এ ছোট রান্না ঘর নির্মাণ করাতে বিট কর্মকর্তার মোটা অংকের অবৈধ দাবি না মিটানোয় তার উপর এ অমানবিক অভিযান চালিয়েছে।

সে এবং এলাকাবাসী এ দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগ উঠা বিট কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযানের বিষয়টি স্বীকার করলেও অন্য অভিযোগ অস্বীকার করেন।