নিউজটি শেয়ার করুন

ইসকন নিয়ে মিথ্যাচার করছে প্রবর্তক সংঘ

ইসকন নিয়ে মিথ্যাচার করছে প্রবর্তক সংঘ
ছবি: সংগৃহীত

সিপ্লাস প্রতিবেদক: ইসকনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) নিয়ে প্রবর্তক সংঘ মিথ্যাচার করছে। শনিবার ( ৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ইসকনের সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মন্দিরের পবিত্রতা নষ্টের জন্য পরিকল্পিতভাবে মন্দির এলাকায় আনসার মোতায়েন করেছে প্রবর্তক সংঘ।

লিখিত বক্তব্যে চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, প্রবর্তক সংঘ ১৮ বছর ইসকনের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘন, ভূমি জবরদখল বা অর্থ আত্মসাতের কোনো অভিযোগ করেনি। কারণ, ইসকনের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়। সরকার অনুমোদিত অডিট ফার্ম দিয়ে প্রতি বছর আর্থিক প্রতিবেদন গৃহীত হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ যাবতীয় সংযোগ প্রবর্তক সংঘের অনুমোদনক্রমেই নেওয়া হয়েছে এবং ইসকন যথাযথ প্রক্রিয়ায় সরকারকে বিল পরিশোধ করে আসছে। সম্প্রতি প্রবর্তক সংঘ মন্দির নির্মাণে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ এনেছে, তা প্রবর্তক সংঘের নির্লজ্জ মিথ্যাচারের উদাহরণ।

অবৈধভাবে মন্দিরের পাথর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে- প্রবর্তক সংঘের এ অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাথরগুলো মন্দিরে শতভাগ ব্যবহৃত হয়েছে বলে প্রত্যয়ন করেছেন। এ পাথর ভারত থেকে দান হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে।

চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, সম্প্রতি প্রবর্তক সংঘ ইসকনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের আইনি নোটিশ দেয়। ইসকনও আইনিভাবে এর জবাব দিয়েছে। ইসকন ও প্রবর্তক সংঘ ইস্যুতে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এ অবস্থায় ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধপূর্ণ জায়গায় আনসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। আনসার সদস্যদের ব্যবহার করে ধর্মপ্রাণ সাধারণ হিন্দুদের সঙ্গে আনসারদের বিরোধ সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে প্রবর্তক সংঘ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রসপ্রিয় গৌর দাস অধিকারী, লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, রাধাগোবিন্দ দাস ব্রহ্মচারী, নিতাই গৌরাঙ্গ দাসাধিকারী, সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, উজ্জ্বল বর্ণ গৌর দাস ব্রহ্মচারী, তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, সর্বমঙ্গল গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও নিতাই নূপুর দাস ব্রহ্মচারী।

ইসকনের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রবর্তক সংঘের সাধারণ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী গনমাধ্যমকে বলেন, ইসকনকে মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেছে প্রবর্তক সংঘ। এখন তারা চুক্তির সব শর্ত ভঙ্গ করে প্রবর্তক সংঘের জমি দখলসহ সন্ত্রাসী তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। তারা প্রবর্তক মন্দিরের নাম ব্যবহার করে

ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে অন্যত্র পাচার করছে। ইসকনের সন্ন্যাসীদের জঙ্গি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। এরা ধর্মকে কলঙ্কিত করছে।

 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments