নিউজটি শেয়ার করুন

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে ভোট করতে না পারায় এতদিন স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠান নিয়ে শঙ্কা ছিল।কিন্ত করোনার সংক্রমন কমে আসায় আবার নির্বাচন করার চিন্তা ভাবনা করছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে  এ নির্বাচন ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। চার ধাপে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। চলতি মাসের শেষ দিকে বা অক্টোবরের শুরুতে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

জানা গেছে, এর আগে ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত কমিশনের ৮৪তম সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইসি। তবে ওই সময় আরও এগিয়ে আনা হচ্ছে। প্রধানত দুটি কারণে নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী তিন হাজারের বেশি ইউপিতে ভোট করতে চায় ইসি। কারণগুলো হচ্ছে-এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন আটকে থাকায় এবার নির্বাচনগুলোর সময়ের ব্যবধান ও ধাপ সংখ্যাও কমানো হচ্ছে। বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো চার ধাপে ভোট করতে চায় ইসি। প্রত্যেক ধাপে প্রতিটি জেলার এক-চতুর্থাংশ ইউনিয়নে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশে আবারও নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির কোন সাড়া শব্দ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাদের সাথে সিপ্লাস যোগাযোগ করলে বিএনপি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ’ হচ্ছে না বলেই এই সিদ্ধান্ত বলে কয়েকজন বিএনপি নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে।

স্থগিত হওয়া ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান সিপ্লাসকে জানান,  তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল আর ইউপি নির্বাচনে না যাওয়ার। গত ফেব্রুয়ারিতে দলের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করার কোন মানেই নাই। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করে আমাদের দলের নেতা কর্মীদের নির্বাসনে চলে যেতে হয়। আমরা নির্বাচনে গেলে সবার অংশগ্রহনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সার্টিফিকেট দিয়ে একতরফা নির্বাচনকে বৈধতা দিয়ে দেয় এই নির্বাচন কমিশন। আবার অন্যদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের সাধারণ নেতা কর্মীদের মামলার জালে জড়িয়ে হেনস্থা করা হয়। এসবের প্রতিবাদে আমরা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল আছি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন, জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন- গত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পরপরই আমরা বলেছিলাম ভবিষ্যতে এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোন নির্বাচনে আমরা যাব না। আমরা এখনো সে সিদ্ধান্তে অটল আছি। দলের হাই কমান্ডও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে এখনো অটল আছেন। নির্বাচনের নামে প্রহসনের অংশ হওয়ার কোন ইচ্ছা নাই বলে তিনি সিপ্লাসকে জানান।

দলীয় প্রতীক ধানের শীষ কাউকে দেয়া হবে না বলে জানান ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে কেউ যদি স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করতে চায়লে তবে দল তাতে বাঁধা দেবে না ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্তর জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক এস এম মুরাদুল ইসলামও প্রায় একই মতামত জানান সিপ্লাসকে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোন নির্বাচনে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই নাই তার দলের নেতা কর্মীদের। নির্বাচনের নামে উল্টো নেতা কর্মীদের মামলা মোকদ্দমা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করা হয়। এইখানে নির্বাচন করার মত লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করেনি এই নির্বাচন কমিশন। আমরা মনে করি এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব না। তাদের কথায় ভরসা করে অতীতে অনেকবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু তারা বারবার নিজেদের ব্যর্থতা প্রমান করেছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments