নিউজটি শেয়ার করুন

আড়াইবছর নিজের সন্তানের আদরে; অত:পর জবাই

অন্যরকম একটি দানের গল্প

জোবাইর রিফাত: অন্যরকম একটি দান এটি। দীর্ঘ আড়াইবছর লালন-পালন করার পর গেলো (২৩ এপ্রিল) বুধবার রাতে নিজের গৃহপালিত গরুটিকে অবশেষে জবাই করে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষদের ঘরে-ঘরে বিলি করলেন সাতকানিয়া উপজেলা যুবলীগের সদস্য মিজানুর রহমান মারুফ।

ধর্মীয় একটি প্রবাদে বলা হয়, ‘যে করে ইছার, হাশরের মাঠে তার হবেনা বিচার’। ইসলাম ধর্মে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি নিজের না থাকা স্বত্তেও বা থাকলেও দান করে, হাশরের ময়দানে তার আমলে বাড়তি হিসাব যোগ করা হয় বা ওই উছিলায় সে মাফ পাই। মারুফের নিজরে গরু জবাই করে সবার মাঝে বিলি করার ঘটনাটা ঠিক এমনই।

এদিকে এই গরু জবাই  করার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তার এমন কাজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।এমনকি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও তার ব্যক্তিগত ফেসবুক ওয়ালে এটি শেয়ার করেছেন।

এই গরু জবাই, বিলি করা এবং গরুটিকে নিয়ে মিজানুর রহমান মারুফের সাথে যখন প্রতিবেদকের কথা হচ্ছিলো, তখন ধরা গলায় কান্নাজড়িত স্বরে মিজান তার সন্তানের মত গরুটির কথা বলছিলেন।

আমরা জানি, প্রথম রমজানে রোজাদারদের ভালো–মন্দ খেতে হয়।অন্যদিকে প্রতিবছরই গরীব-অসহায় ও দুস্থদের জন্য অনেকেই গরু জবাই করে বিলি করে থাকেন।তবে দীর্ঘ আড়াইবছর একটি গরুকে লালন-পালন করার পর সেটিকে করোনায় ঘরবন্দী প্রতিবেশি মানুষদের জন্য জবাই করে দেয়াটা কি আসলেই চাট্টিখানি কথা? মালিকের কি খারাপ লাগার কথা না? অবশ্যই হ্যাঁ!

মিজানুর রহমান সেটিই করে দেখালেন।

‘আমি আজ সন্ধ্যা থেকে এখনো আমার বাংলোর পাশে সেই গরুর ঘরটির পাশে বসে আছি।ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা কিরকম লাগছে’, সেই গরুটির মালিক মিজান বলেন।

অনেকে ত্রাণ বিতরণ করছে বা আর্থিক সহযোগিতা করছে, এদিক থেকে আপনি নিজের পোষা গরুটিকে কেন জবাই করার সিদ্ধান্ত নিলেন?

জবাবে বলেন, এই দুর্দিনে প্রথম রোজায় আমার এলাকার প্রতিবেশী, অভাবী খেটে খাওয়া মানুষরা যাতে ভালো-মন্দ একবেলা খেতে পারে তাই জবাই করা।

তিনি আরো বলেন, আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা কেমন লাগছে আমার।কালরাতে গরুটির কাছে গিয়ে মাফ চেয়েছি। তাকে বলেছি আমাকে মাফ করে দিস! অনেক্ষণ তার কাছে ছিলাম আমি। আমার মনটা আনচান করছে, কিন্তু মানবতাকে সবকিছুর উর্দ্ধে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সর্বমোট ৩৩৩টি পরিবারে মাঝে আমার ৭ মণ ২৩ (৩০৩) কেজি ওজনের গরুর মাংসগুলো আমার এলাকায় বিতরণ করেছি।

করোনার এমন দুর্দিনে এ ধরণের মানবিকতা সত্যিকার অর্থে প্রশংসার দাবিদার এবং সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিজানুর রহমান মারুফেরা এগিয়ে আসলে শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদের আশে-পাশে কোনো মানুষ অভুক্ত থাকবেনা বলে মনে করছেন অনেকে।

মিজানুর রহমান মারুফ সাবেক এমপি মরহুম ডাঃ বি এম ফয়েজুর রহমানের ভাতিজা এবং সাতকানিয়া ৪নং কাঞ্না ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মরহুম আতাউর রহমানের পুত্র।