নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও স্বপ্ন দেখতে চায় মিটুল

দুর্ঘটনায় তছনছ সুখের সংসার, হারালেন বড়ভাইকেও

জিয়াউল হক ইমন: সড়ক দুর্ঘটনা সব স্বপ্ন কেড়ে নিলো জহিরুল ইসলাম মিটুল চৌধুরী নামের এক যুবকের। চিকিৎসা সহায়তা দিতে এসে করোনাকালে অক্সিজেনের অভাবে হারালেন বড় ভাইকে। সন্তানদের এমন দুর্দশা দেখে স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী বাবা। সব মিলে মিটুলের সাজানো সব স্বপ্ন হয়ে গেলো তছনছ।

অথচ পাঁচ মাস আগেও তাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া।

কিন্তু বিধি বাম। গত ৩০ জুন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে বাম পা অচল হয়ে হওয়ার পথে। এছাড়াও ,তল পেটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষত বিক্ষত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই পর্যন্ত চার বার পায়ের অপারেশন হয়েছে ।ইনফেকশন হওয়ায় পায়ের মাংস কেটে ফেলতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে ১ মাস ২৫ নং সার্জারী ওয়ার্ডে পরে ৩৬ নং বার্ণ এন্ড প্লাষ্টিক সার্জারীতে ছিলেন দেড় মাস।  পায়ের মাংস এবং চামড়া কেটে প্লাষ্টিক সার্জারী অপারেশন করায় সেখানেও প্রায় ১মাসের উপরে কেটে যায়।

এখনো সুস্থ হয়ে উঠেনি মিটুল। সুস্থ হতে আর কতদিন লাগবে সেটাও জানেনা।

চিকিৎসাধীন সময়ের শুরুতেই তাঁর বড় ভাই চিকিৎসাসেবা দিতে এসে নিজেই অক্সিজেনের অভাবে চিকিৎসাহীন অবস্থায় মারা যান। সন্তানদের এই অবস্থা দেখে স্ট্রোক করে এখনো শয্যাশায়ী পিতা আবু তাহেরও।

মিটুল বিয়ে করছেন দুর্ঘটনার ৩ মাস আগে।

মিটুল বিয়ে করে আত্মীয় পরিজন নিয়ে সুখের সংসার গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন তছনছ হয়ে গেছে।

কিন্তু এরপরও হারতে চান না মিটুল। চান উঠে দাঁড়াতে। সবার সহযোগীতায় একটা চাকরি পেলে তিনি আবার নতুন জীবন শুরু করবেন এমন ইচ্ছে তার।

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলাম মিটুল চৌধুরী ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পক নগর এলাকার আবু তাহের’র ছেলে।

গত ৩০ জুন লকডাউন শেষে মোটর সাইকেল চালিয়ে ফেনীর বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের বাসায় আসার পথে কুমিরা রয়েল গেটের সামনে ৮নং রুটের একটি বাস মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে যান। আর কিছু মনে নাই তার।

তার সাথে থাকা মোবাইল, মানি ব্যাগ, এটিএম কার্ড, ঘড়ি ও বাইকের সব কাগজ পত্র আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জ্ঞান ফিরলে দেখেন কিছু মানবিক লোক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মী তাকে উদ্ধার করে আশংকা জনক অবস্থায় প্রথমে সীতাকুণ্ড জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

মিটুল বলেন, দুর্ঘটনার কারনে আমি যদি জীবন সংগ্রামে হেরে যেতে চাইনা। আমাকে একটু সহযোগীতা করুন। আমি আবারও স্বপ্ন দেখতে চাই।

মিটুল বর্তমানে পূর্ব নাসিরাবাদের জাতীয় গূহায়ন কর্তৃপক্ষের স্টাফ কোয়াটারে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।