নিউজটি শেয়ার করুন

আনোয়ারায় মুজিব কিল্লার মাটি বাহিরে বিক্রির অভিযোগ

আনোয়ারা প্রতিনিধি: আনোয়ারায় মুজিব কিল্লার মাটি বাহিরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় একটি চক্র দিনরাত খাস খতিয়ানের পুকুর থেকে মাটি বিক্রি করে যাচ্ছে। উপজেলা পিআইও অফিসার জামিরুল ইসলামের অনুমতি নিয়েই তারা মুজিব কিল্লার মাটি বাহিরে বিক্রি করছেন বলে জানিয়েছেন।

জানা যায়, উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের আইরমঙ্গল এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে মুজিব কিল্লা তৈরির প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প অফিস প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প এলাকায় চলছে মাটি ভরাটের কাজ। পাশ্ববর্তী খাস খতিয়ানের একটি বিশালকার পুকুর থেকে এই মাটি উত্তেলন করে মুজিব কিল্লা তৈরির স্থানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। এক সপ্তাহ আগেই পুকুর থেকে প্রয়োজনীয় মাটি উত্তোলন করে জায়গাটি ভরাট করা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এখনো থেমে নেই পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন। আর দিনরাত এসব মাটি উত্তোলন করে বাহিরে বিক্রি করছে স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী আইয়ুব, হানিফ ও মোহাম্মদ নুর সিন্ডিকেট।

খাস পুকুর থেকে মাটি বিক্রির এই কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলামের অনুমতি নিয়েই করছেন বলে জানিয়েছেন মাটি বিক্রির সাথে জড়িত এই চক্রটি।

সরেজমিন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আইরমঙ্গল এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মুজিব কিল্লার জন্য নির্ধারিত খাস খতিয়ানের পুকুর থেকে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে একজনের ভিটে ভরাট করা হচ্ছে।

পুকুরের পাড়ে গিয়ে দেখা যায় স্কেভেটর দিয়ে ৮/১০ টি ট্রাকে মাটি ভর্তি করা হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে অনেক গভীর থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মুজিব কিল্লার জন্য মাটি ভরাটের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু মাটি ব্যবসায় চক্রটি মুজিব কিল্লার নাম দিয়ে এখনো দিনরাত মাটি কেটে বাহিরে বিক্রি করে যাচ্ছে। এত গভীর করে মাটি নেয়ার কারণে পুকুরটি জনসাধারণরে জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জানতে চাইলে মাটি পাচারকারী আইয়ুব ও আহমদ নুর জানান, আমরা উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলামের অনুমতি নিয়েই মাটি বিক্রি করছি। মুজিব কিল্লার মাটি উত্তোলন সমাপ্ত হওয়ায় অবশিষ্ট মাটি তিনি সরিয়ে নিতে বলেছেন। তাই আমরা মাটিগুলো সরিয়ে নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ যদি মাটি কাটে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে খাস জায়গা থেকে মাটি বিক্রি করার কোনো অনুমতি নেই। কেউ যদি বিক্রি করে তা আমাদের অগোচরে করছে। এখানে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমেদ সিপ্লাসকে জানান, মাটি কাটা হয়েছে মুজিব কিল্লার জন্য। কিন্তু এসব মাটি বাহিরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পর আর কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা এসব মাটি বিক্রির সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।