নিউজটি শেয়ার করুন

অভিযানের ইস্যুকে পুঁজি: ইটের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে

মো মহিন উদ্দীন: উচ্চ আদালতের নির্দেশ পেয়ে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল ইটভাটা ভেঙে ফেলতে অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর। এ ইস্যুকে পুঁজি করে ইটভাটার মালিকরা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়াচ্ছে ইটের দাম। এনিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে মানুষের মাঝে।

এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের অভিযানকে বির্তকিত করতে ইটের দাম বাড়াচ্ছেন ভাটার মালিকরা এমন দাবী সচেতন মহলের।

সুত্রমতে, আর্থিক সুবিধা ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর ভাটাগুলো দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ ওঠেছে, উচ্চ আদালতের রায়ের পর অবৈধ ভাটা মালিকেরা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে থামিয়ে দিয়েছে উচ্ছেদ অভিযান। ইটভাটায় প্রশাসনের অভিযান ও বন্ধ, পরবর্তীতে ওই ভাটাগুলো পুনরায় চালু হওয়ায় মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যে লুকোচুরি খেলায় পরিনত হয়েছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।

রাউজানে গুঁড়িয়ে দেয়া ইটভাটার মালিক সাইফুল ইসলাম রানা সিপ্লাসকে বলেছেন, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ। কেননা তাদের অভিযানে বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কারণ আমার ইটভাটায় যাওয়ার আগে যেসব ভাটা আছে তাদের অবস্থাও আমাদের মত। তারপরও আমার ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল।

তার কথার সাথে একমত পোষণ করেন ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়ার গুঁড়িয়ে দেয়া ইটভাটার মালিকরা।

তারা বলেন, যদি আমাদের ইটভাটাগুলো অবৈধ হয়, তাহলে আমাদের আশেপাশে যে সব ইটভাটা আছে সেগুলো কিভাবে বৈধ হল? তারা যেভাবে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরকে সরকারের রাজস্ব দেয় তাতো আমরাও দিই। শুধু তা নয়, প্রতিবছরই আমরা ইউপি থেকে শুরু করে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদফতরকে পর্যন্ত টাকা দিই। এমনকি স্থানীয় নেতা কিংবা সভা সংগঠন আর ভুমি অফিস থেকে শুরু থানা পুলিশ এবং সাংবাদিকরা পর্যন্ত আমাদের টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান করে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে সাতদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল ইটভাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশসহ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

গত ৩১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে আবারও নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু অবৈধ ইটভাটা বন্ধের এ পদক্ষেপ ঠেকাতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন চট্টগ্রামের ২৩ ইটভাটার ১৮ মালিক।

তবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের সেই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্টের এ আদেশ পেয়ে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন থেকে চট্টগ্রামে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন।

গুঁড়িয়ে দেয়া ইটভাটার মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দীনের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, এবিষয়ে যারা অভিযানে গেছেন কেবল তারাই জানেন।